Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে আবারও সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবারই ফের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে এই বিষয়ে চিঠি দিলেন তিনি।
কী জানালেন চিঠিতে ?
মঙ্গলবার পাঠানো ওই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR)-এর নামে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর দাবি, বিজেপির এজেন্টরা বিপুল সংখ্যায় ‘ফর্ম-৬’ জমা দিচ্ছে, যা নতুন ভোটার হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন। মমতার দাবি, এই আবেদনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা নন এমন বহু মানুষের নাম তালিকায় তোলার চেষ্টা চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিহার, হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের মতো একই পদ্ধতি এখানে প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘বহিরাগত’দের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং এতে প্রত্যক্ষ ভাবে বিজেপির মদত রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) তাঁর চিঠিতে ২০ ফেব্রুয়ারির সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধন বা নাম বাদ দেওয়ার মতো প্রক্রিয়া বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে হওয়া উচিত। সেই প্রেক্ষিতে প্রায় ৬০ লক্ষ আবেদন বকেয়া থাকা অবস্থায় ৩০ হাজার নতুন আবেদন গ্রহণ করা ‘আইনবিরুদ্ধ’ এবং আদালত অবমাননার সামিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।
কমিশনের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নতুন আবেদন গ্রহণ করা উচিত নয়। কিন্তু ২৭ মার্চ কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সময়সীমা বাড়িয়েছে, যা বিজেপি ও বহিরাগতদের সুবিধা দেবে বলে অভিযোগ মমতার। এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা থাকলেও, তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের বিরোধী হতে পারে না বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ভোটের আগে রাজনৈতিক কৌশল
তবে রাজনৈতিক মহলের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) এই ধরনের চিঠি শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ও ভোট কৌশলের অংশ। এর মাধ্যমে তিনি ভোটারদের কাছে বার্তা দিতে চান যে, তিনি ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে সদা সক্রিয়। বিশেষ করে ‘বহিরাগত’ ইস্যু তুলে ধরে তিনি আঞ্চলিক পরিচয় ও স্থানীয় স্বার্থের প্রশ্নকে সামনে আনছেন, যা বাংলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আবেগের বিষয়। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সম্ভাব্য অনিয়মের আশঙ্কা আগেভাগে জনসমক্ষে আনছেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনও বিতর্ক হলে তার রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি থাকে। এবার এই কৌশল রাজনীতির ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলবে সেটাই দেখার।


