26 C
Kolkata
Tuesday, March 31, 2026
spot_img

চাকরি গেল, থামল না দৌড় ভোটের ট্র্যাকে স্বপ্না

Aaj lndia Desk,জলপাইগুড়ি: চাকরি গেল, কিন্তু লড়াই নয় ভোটের ময়দানে নতুন দৌড় শুরু হয়েছে স্বপ্নার , বরখাস্তের ধাক্কা সামলেও থামলেন না তিনি। এশিয়াডে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না এবার জীবনের আর এক গুরুত্বপূর্ণ ট্র্যাকে রাজনীতির ময়দানে। রেলের চাকরি হারালেও মিলেছে ‘নো ডিউ’ সার্টিফিকেট, ফলে রাজগঞ্জ কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হতে আর কোনও বাধা রইল না।খেলার মাঠে যেমন হার মানেননি, তেমনই জীবনের এই নতুন লড়াইয়েও আত্ম বিশ্বাসী স্বপ্না। চাকরি হারানোর আঘাত কে শক্তিতে বদলে ভোটের দৌড়ে নেমেছেন তিনি এবার লক্ষ্য জন সমর্থনের সোনা জেতা।

আইনি লড়াই শেষে অবশেষে মাঠে নামলেন স্বপ্না এবার সরাসরি জনতার দরবারে প্রার্থী হওয়ার পর এতদিন রাজগঞ্জে খুব একটা দেখা যায়নি তাঁকে। কারণ, তখন চলছিল অন্য এক লড়াই হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চে দৌড়ঝাঁপ। সেই পর্ব কাটিয়ে রবিবার বিকেল থেকেই বদলে যায় ছবি। প্রচারের ময়দানে নামেন এশিয়াড সোনাজয়ী স্বপ্না।

সোমবার সকালে হাতে আসে ‘নো ডিউ’সার্টিফিকেট, আর সঙ্গে সঙ্গেই গতি পায় তাঁর রাজনৈতিক ইনিংস। কৃষ্ণ দাস ও খগেশ্বর রায়কে পাশে নিয়ে শুরু করেন প্রচার। শিকারপুরের হরিমন্দির এলাকায় প্রস্তুতি সভাতেও হাজির থেকে জানান দেন তিনি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।

আগামী বুধবার রাজগঞ্জে জনসভা করতে আসছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সেই সভার আগেই নিজের অবস্থান শক্ত করতে মাঠে নেমে পড়েছেন স্বপ্না।রেলের সার্টিফিকেট হাতে পেয়ে স্বপ্নার সোজাসাপ্টা বার্তা ‘আর কোনও বাধা নেই, এবার পুরোদমে প্রচার।’ খেলার ট্র্যাক থেকে রাজনীতির মঞ্চ লড়াইটা বদলেছে, কিন্তু দৌড় থামেনি।চাকরি বনাম রাজনীতি দুই ট্র্যাকে দৌড়, মাঝপথে অনিশ্চয়তার কুয়াশায় স্বপ্না রেলের চাকরিতে থাকাকালীনই তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) যোগ এই সিদ্ধান্তই যেন ঝড় তোলে স্বপ্নার জীবনে।

শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলে রেলের তদন্ত শুরু হয়, আর ঠিক সেই সময়েই রাজগঞ্জে তাঁকে প্রার্থী করে দল।নিয়ম বলছে, চাকরি ছাড়ার অনুমতি দরকার কিন্তু রেলের তরফে সেই ছাড়পত্র মেলেনি।ফলে শুরু হয় আর এক লড়াই এইবার আদালতের পথে। জলপাইগুড়ির হাইকোর্ট সার্কিট বেঞ্চে মামলা দায়ের করেন স্বপ্না। দু’দফা শুনানি হলেও মিলল না কোনও চূড়ান্ত রায়।

এর মাঝেই আসে নতুন মোড়। বিচারপতির পরামর্শ রেলের কাছে ক্ষমা চেয়ে চিঠি দেওয়া হোক। কিন্তু সেই পরামর্শ ঘিরেই শুরু হয় জল্পনা, বিতর্ক, জলঘোলা। প্রশ্ন উঠতে থাকে তাহলে কি আদৌ প্রার্থী থাকতে পারবেন স্বপ্না?

খেলার মাঠে বাধা টপকানো যাঁর অভ্যাস, তাঁর জীবনেই যেন এবার একের পর এক ‘হার্ডল’। আর সেই হার্ডল পেরোতেই তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তার দীর্ঘ ছায়া।আইনি টানাপোড়েনের পর ‘ক্লিয়ার সিগন্যাল’ স্বপ্নার সামনে খুলল ভোটের রাস্তা

দীর্ঘ জটিলতার পর অবশেষে কাটল সংশয়। স্বপ্নার লড়াই যেন পৌঁছল এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে। তাঁর আইনজীবী নিলয় চক্রবর্তীর কথায়, রেলের তরফে ‘নো ডিউ’ সার্টিফিকেট মেলার পর মনোনয়ন জমা দেওয়ার পথে আর কোনও বাধা রইল না।

অন্যদিকে, রেলের আইনজীবী ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল সুদীপ্ত মজুমদার এই ঘটনার অন্য দিকটি তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, স্বপ্না নিজের ভুল স্বীকার করে রেলকে চিঠি দেওয়ার পরই তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় এবং তারপরই দেওয়া হয় ‘নো ডিউ’ সার্টিফিকেট।

অর্থাৎ, আইনি ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন পেরিয়ে শেষমেশ পথ পরিষ্কার এবার স্বপ্নার পুরো ফোকাস ভোটের ময়দানে। চাকরির অধ্যায় শেষ হলেও রাজনৈতিক ইনিংসের দরজা খুলে গেল পুরোপুরি।

 

 

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন