22 C
Kolkata
Tuesday, March 24, 2026
spot_img

বাড়ছে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা : গাজিয়াবাদে ISI গুপ্তচর চক্র !

Aaj India Desk, উত্তরপ্রদেশ : দেশে বিধানসভা ভোটের আবহে রবিবার উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে বড়সড় ISI গুপ্তচরবৃত্তির চক্রের পর্দাফাঁস করে পুলিশ। ঘটনার জেরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা Inter-Services Intelligence (ISI)-এর হয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোপন গতিবিধি ও অস্ত্র পরিবহনের তথ্য পাচার করছিল এই চক্র। এই অভিযোগে মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক মহিলা ও এক নাবালক। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটি সাম্প্রতিক সময়ে ধরা পড়া অন্যতম বড় গুপ্তচর চক্র। এই চক্র শুধু উত্তরপ্রদেশেই নয়, বরং দিল্লি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে ছিল।

তদন্তে উঠে এসেছে, নৌশাদ আলি নামে এক ব্যক্তি এই চক্রের মূল পান্ডা। তিনি প্রযুক্তিগত কাজে দক্ষ, বিশেষ করে মোবাইল রিপেয়ারিং, কম্পিউটার অপারেশন এবং সিসিটিভি ইনস্টলেশন ও মেরামতির কাজে তিনি পারদর্শী। এই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়েই তিনি একটি সুসংগঠিত গুপ্তচর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।

কীভাবে চলত গুপ্তচরবৃত্তি ? 

তদন্ত অনুযায়ী, এই চক্রের কাজের ধরন ছিল পরিকল্পিত এবং প্রযুক্তিনির্ভর। গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এলাকায় গোপনে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হত। বিশেষ করে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট, সোনিপত রেলস্টেশন এবং সেনা চলাচলের রুটের মতো সংবেদনশীল এলাকাকে টার্গেট করা হয়েছিল। এই ক্যামেরাগুলির মাধ্যমে ভারতীয় সেনার গতিবিধি, অস্ত্র পরিবহন এবং রুট সংক্রান্ত লাইভ ফুটেজ সংগ্রহ করা হত। এরপর সেই তথ্য সরাসরি পাকিস্তানে থাকা ISI হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হত। প্রতিটি ভিডিও ক্লিপ পাঠানোর জন্য প্রায় ১০ হাজার টাকা করে পারিশ্রমিক দেওয়া হত বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

৫০টি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা

তদন্তে আরও জানা গেছে, এই চক্রের লক্ষ্য ছিল আরও বড়। দিল্লি থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত সেনা চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ রুটে প্রায় ৫০টি গোপন ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা ছিল। এই কাজের জন্য অভিযুক্তদের অনলাইনে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে তারা সব ক্যামেরা সঠিকভাবে ইনস্টল করতে পারেনি। এর পরেই তারা গাজিয়াবাদের কৌশাম্বী এলাকায় স্থানীয় সিসিটিভি মেকানিক খুঁজতে শুরু করে।

এই অস্বাভাবিক কার্যকলাপই পুলিশের সন্দেহের কারণ হয়। কৌশাম্বী থানার এক বিট কনস্টেবল বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর নজরদারি বাড়িয়ে সন্দেহভাজনদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। জেরাতেই সামনে আসে গোটা চক্রের কার্যকলাপ। এরপর ধারাবাহিক অভিযানে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

ধৃতদের মধ্যে থাকা মীরা নামক মহিলা আগেও দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের হাতে অস্ত্র পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, মহিলাদের ব্যবহার করা হত পুলিশের নজর এড়াতে। এক নাবালকের জড়িত থাকার ঘটনাও তদন্তকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কীভাবে তাকে এই চক্রে যুক্ত করা হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উদ্ধার সামগ্রী ও তদন্তের অগ্রগতি

পুলিশ ধৃতদের কাছ থেকে একাধিক মোবাইল ফোন, হার্ডডিস্ক, সিসিটিভি সরঞ্জাম এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছে। এগুলির ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই চক্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বড় কোনও নেটওয়ার্ক যুক্ত রয়েছে কি না। একই সঙ্গে ISI-এর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণও খোঁজা হচ্ছে।

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক: যুদ্ধের আশঙ্কা কতটা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। অতীতে এমন ঘটনার জেরে বহুবার উত্তেজনা বেড়েছে, তবে তা সরাসরি যুদ্ধের দিকে গড়ায়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতেও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে যুদ্ধ সংক্রান্ত কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সতর্ক রয়েছে এবং সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত দুই দেশের গোয়েন্দা দপ্তরের লড়াই, যা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধের সম্ভাবনা কম হলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন