Aaj lndia Desk, চীন : স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি মানেই যেখানে পড়াশোনার বাড়তি চাপ, অ্যাসাইনমেন্ট আর রুটিনে বাঁধা সময় সেখানে হঠাৎই বদলে গেল চেনা ছবি। ভাবুন তো, ছুটি পড়তেই যদি বলা হয় বই সরিয়ে রাখুন -এবার অন্য কিছুর সময়!
শুনতে অবাক লাগছে? লাগারই কথা। কারণ এমনই এক অদ্ভুত নির্দেশ এসেছে চিনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, যেখানে পড়ুয়াদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে
এই ছুটিতে পড়াশোনা নয়, বরং …
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশ ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল, বিতর্ক আর প্রশ্নের ঝড় শুধু মজা, না কি এর পেছনে লুকিয়ে আছে বড় কোনও সামাজিক বার্তা?যেখানে গোটা দুনিয়া পড়াশোনার চাপ নিয়ে চিন্তিত, সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেন চাইছে পড়ুয়ারা বই ছেড়ে প্রেমে মন দিক? এটা কি শুধুই এক্সপেরিমেন্ট,না কি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিকতা বদলানোর এক নতুন কৌশল?
উত্তরটা কিন্তু এতটা সহজ নয়…
ছুটি মানেই পড়াশোনা এই ধারণাকেই যেন উল্টে দিল চিনের এক বৃত্তিমূলক কলেজ। গ্রীষ্ম-শীতের পাশাপাশি এবার চালু হয়েছে বসন্ত ও শরৎকালীন ছুটি। সময়টা এপ্রিল-মে নাগাদ। কিন্তু আসল চমকটা অন্য জায়গায়, এই ছুটিতে পড়াশোনা নয়, বরং স্পষ্ট নির্দেশ – “বই দূরে রাখুন, প্রেম করুন, সম্পর্ক গড়ুন।”
শুনতে মজার, কিন্তু ব্যাপারটা সিরিয়াস! প্রথমে বিষয়টা যতই ‘কিউট’ বা ‘অদ্ভুত’ মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে বড় সামাজিক বাস্তবতা। চীন (China)-এ টানা চার বছর ধরে জনসংখ্যা কমছে।
২০২৫ সালের পরিসংখ্যান বলছে-
জন্মহার নেমেছে রেকর্ড স্তরে,তরুণ প্রজন্ম বিয়ে ও সন্তান নেওয়া থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাই এবার ‘প্রেম’ই সমাধান?
এই পরিস্থিতিতে এনডিআরসি ( National Development and Reform Commission)নতুন দিশা দেখাতে চাইছে। তাদের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে শিশুবান্ধব সমাজ গড়তে হবে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, বিনোদন সব ক্ষেত্রেই উন্নতি আনতে হবে আর তারই এক অদ্ভুত প্রতিফলন এই ‘প্রেমের ছুটি’
প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে
প্রেম কি সত্যিই জন্মহার বাড়াতে পারে? নাকি এটা শুধু তরুণদের মানসিক চাপ কমানোর নতুন কৌশল? আর সম্পর্ক গড়ার এই ‘প্রাতিষ্ঠানিক উৎসাহ’ এটা কি ব্যক্তিগত জীবনে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ?
চিন যেভাবে সমস্যার সমাধান খুঁজছে, তা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী কিন্তু একইসঙ্গে বিতর্কিতও। যখন সরকারই বলছে “প্রেম করুন”, তখন প্রশ্নটা শুধু রোম্যান্সে সীমাবদ্ধ থাকে না ,এটা হয়ে ওঠে রাষ্ট্র বনাম ব্যক্তিগত পছন্দের এক অদ্ভুত টানাপোড়েন।হয়তো এই ‘প্রেমের ছুটি’ ভবিষ্যতের সমাজ গঠনের ইঙ্গিত…অথবা, এক মরিয়া চেষ্টার শুরু যেখানে বইয়ের পাতার বদলে, সমাধান খোঁজা হচ্ছে হৃদয়ের ।


