Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা : প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) অন্দরে টিকিট বণ্টন নিয়ে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। একাধিক বিদায়ী বিধায়কের দাবি, আর্থিক লেনদেনের ভিত্তিতেই প্রার্থী নির্বাচন হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একাধিক ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। সেই আবহেই এবার সামনে এল নোয়াপাড়ার ঘটনা।
নোয়াপাড়ার বর্তমান বিধায়ক মঞ্জু বসু গত বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৯৪ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। তবে এবার তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি। তাঁর পরিবর্তে ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের (Trinamool Congress) প্রার্থী করা হয়েছে তীর্থঙ্কর ভট্টাচার্যকে। অন্যদিকে, বিজেপির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন অর্জুন সিং।
টিকিট না পাওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠক করে ক্ষোভ উগরে দেন মঞ্জু বসু। তিনি বলেন, “আগেই এক মন্ত্রী আমাকে জানিয়েছিলেন, আমি টিকিট পাব না। এখানে লেনদেনের বিষয় রয়েছে। ২০১৮ সালেও এমন হয়েছে। সুনীল সিং নিজেই বলেছিলেন, তিনি ৪০ লক্ষ টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, “সভ্য সমাজে এমন হওয়া উচিত নয়। আমাকেও বিজেপি থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দলের নেতার কাছ থেকেও ভাল ব্যবহার পাইনি।” মঞ্জু বসু স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এবার টিকিট দিলেও আমি নিতাম না। এই অপমান নিয়ে রাজনীতি করব না।”
তবে এই মন্তব্য তাঁর একার নয়। পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের বিদায়ী তৃণমূল (Trinamool Congress) বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্রও টিকিট না পাওয়ার পর প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, “অনেক জায়গা থেকে শুনছি, টাকার বিনিময়ে টিকিট দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সাংগঠনিক পদ পেতেও লেনদেন হচ্ছে।”
এই ধরনের মন্তব্যে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। দলীয় অন্দরে আরও একাধিক নেতার মধ্যে একই ধরনের ক্ষোভ রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। যদিও বেশিরভাগই প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না, তবে অসন্তোষ ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, টিকিট বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসায় নির্বাচনের আগে শাসকদলের জন্য তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।


