কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মমতার গড় ভবানীপুরেও লড়তে পারেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari), এই নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। কলকাতা পুরসভার ৮টি ওয়ার্ড—৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৭ ও ৮২ নিয়ে গঠিত ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র। বিজেপির দাবি, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই এই কেন্দ্রের একাধিক ওয়ার্ডে তাদের সংগঠন শক্তিশালী হয়েছে।
এমনকি ওই নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী তথাগত রায় অল্প ব্যবধানে তৃণমূল নেতা সুব্রত বক্সিকে পিছনে ফেলেছিলেন বলেও দলীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, দলীয় সূত্রে খবর, ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের চক্রবেড়িয়া রোডে একটি বাড়ির নীচতলায় ‘ওয়ার রুম’ তৈরি করেছে বিজেপি। তবে ডবল সিটে লড়ার ব্যাপারে কি মত শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari)?
কোন আসন পছন্দ বিরোধী দলনেতার?
রবিবারই প্রকাশিত হতে ভোটের নির্ঘণ্ট। তার আগে নন্দীগ্রামে ‘পছন্দের আসন’ নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ২০২১-এর ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের আসন ভবানীপুরের পরিবর্তে নন্দীগ্রাম থেকে লড়ে শুভেন্দুর কাছে হেরে যান। এরপর ভবানীপুর (Bhawanipur) উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে মমতা মুখ্যমন্ত্রী থাকার সাংবিধানিক শর্ত পূরণ করেন।
রবিবার সেই নন্দীগ্রামে সাংবাদিকদের শুভেন্দু জানান, আসন্ন বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রাম থেকেই লড়তে চান তিনি। শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “আমাকে জিজ্ঞেস করলে বলবো, নন্দীগ্রামেই লড়তে চাই”। যদিও, আসনে টিকিট দেওয়া নিয়ে দলের সিদ্ধান্তকেই গ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি। পার্টি যদি অন্য কোথাও দাঁড়াতে বলে, তাহলে তিনি সেখানেই লড়বেন বলেন শুভেন্দু অধিকারী।
তৃণমূলকে বিঁধে শুভেন্দুর কটাক্ষ, “এটা পিসি-ভাইপোর পার্টি নয়। এটা বিজেপি। এখানে ব্যক্তি সিদ্ধান্ত নয়, দলের সিদ্ধান্তই সবার উপরে”। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক। আমাকে জিজ্ঞেস করা হলে আমি বলবো, নন্দীগ্রামেই লড়ব”।
নন্দীগ্রামে কাকে প্রার্থী করবে তৃণমূল?
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামকে বলা হয় ‘হটস্পট’। মমতার সিঙ্গুর আন্দোলন, বাম সরকারের পতন, আবার এই নন্দীগ্রামেই মমতার হার দেখেছে। যদিও, নন্দীগ্রামের গত নির্বাচনের ফলাফল বিচারাধীন। তবে এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম তৃণমূলের কাছে লেবল একটি কেন্দ্র নয়, বরং ‘প্রেস্টিজ ফাইট’ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল।
শুধু তাই নয়, নন্দীগ্রামে শুভেন্দুকে পরাজিত করতে পারলে বাংলার বুক থেকে একটি বড় পদ্মকাঁটা সরানো সম্ভব হবে বলেও মনে করছেন অনেকে। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বঙ্গ বিজেপির রাশ ধরে রেখেছেন শুভেন্দু অধিকারীই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ।
সুতরাং, শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) হার তৃণমূলের রাস্তা বহুলাংশে প্রশস্ত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নন্দীগ্রামে বিশেষ গুরুত্ব দেবে শাসকদল, বলেই ধারণা। তবে দলীয় দুত্রে খবর, শুভেন্দুর বিপরীতে নন্দীগ্রামের কোনও ভূমিপুত্রকেই দাঁড় করাতে পারে তৃণমূল। এখন বিজেপি-তৃণমূল উভয়েরই আনুষ্ঠানিক প্রার্থীতালিকা ঘোষণার দিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।


