Aaj India Desk, কলকাতা: সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। এবার বাজারদরের তুলনায় কম দামে রেশন দোকান থেকেই কেরোসিন (Kerosene) তেল পাওয়া যাবে। মূলত রান্নার জ্বালানির কাজে ব্যবহারের জন্য এই ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে কেরোসিন (Kerosene) সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলিকে অতিরিক্ত প্রায় ৪৮ হাজার কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করা হয়েছে, যা নিয়মিত মাসিক বরাদ্দের অতিরিক্ত। এই কেরোসিন মূলত পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (PDS) অর্থাৎ রেশন দোকানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে এলপিজি (LPG)ব্যবহারের প্রসার বাড়ার কারণে অনেক জায়গায় কেরোসিনের ব্যবহার কমে গিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিকল্প জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। সেই কারণেই আবার রেশন দোকানের মাধ্যমে কেরোসিন (Kerosene) সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই ব্যবস্থার ফলে বিশেষ করে গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় এখনও রান্না বা আলো জ্বালানোর জন্য কেরোসিন ব্যবহার করা হয়। ফলে রেশন দোকানে তুলনামূলক কম দামে কেরোসিন পাওয়া গেলে সাধারণ মানুষের খরচ কিছুটা কমবে।
জানা গিয়েছে, ১০০ টাকা প্রতি লিটার তেলে তুলনায় প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ কম দামে রেশন দোকান থেকে কেরোসিন (Kerosene) পাওয়া যাবে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য খরচ অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, রেশন দোকানে প্রতি লিটার কেরোসিনের দাম থাকতে পারে ৫১.৯৩ টাকা থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্র সরকার রাজ্যগুলির জন্য অতিরিক্ত ৪০ হাজার কিলোলিটারেরও বেশি কেরোসিন বরাদ্দ করেছে। রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমেই এই কেরোসিন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, সারা দেশে প্রায় ৫ লক্ষেরও বেশি রেশন দোকানের নেটওয়ার্ক রয়েছে। এই বিশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই কেরোসিন তেল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতি ব্যক্তিকে মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ কেরোসিন দেওয়ার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
তবে কেরোসিন যাতে অন্য কাজে ব্যবহার না হয় বা পেট্রোল ডিজেলে ভেজাল হিসেবে ব্যবহার না করা হয়, সেদিকেও নজর রাখতে রাজ্য সরকারগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেরোসিনের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের বহু দরিদ্র পরিবার সাময়িকভাবে স্বস্তি পাবে। কারণ বাজারের তুলনায় কম দামে জ্বালানি পাওয়া গেলে তাদের দৈনন্দিন খরচ অনেকটাই কমবে।


