Aaj India Desk, পশ্চিম মেদিনীপুর: মাঠে ফসল ভাল, কিন্তু বাজারে দাম নেই এই অভিযোগ নতুন নয়। তবে এবার সেই অভিযোগেরই ভয়াবহ পরিণতি সামনে এল পশ্চিম মেদিনীপুরে। আলু চাষে (Potato farming) বিপুল লোকসানের জেরে এক কৃষকের মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক, রাজ্য রাজনীতিতে বেশ উত্তাপ ।
ঘটনাটি ঘটেছে চন্দ্রকোনা ১নম্বর ব্লক (Chandrakona I Block)-এর রাঙামাটি গ্রামে, পশ্চিম মেদিনীপুর (Paschim Medinipur) জেলায়। মৃত কৃষকের নাম রাখাল আড়ি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মরশুমে প্রায় চার বিঘা জমিতে আলু চাষ (Potato farming) করেছিলেন তিনি। সেই চাষ করতে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। অভিযোগ, সেই টাকা জোগাড় করতে স্ত্রীর গয়নাও বন্ধক রাখতে হয়েছিল।
রাখালের নিজের জমি ছিল মাত্র দশ কাঠা। বাকি জমি লিজ নিয়ে চাষ করতেন তিনি। সংসারে রয়েছেন মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান। পরিবারের আশা ছিল, আলুর ভাল ফলন হলে ঋণের চাপ কিছুটা কমবে। কিন্তু মাঠ থেকে আলু ওঠা শুরু হতেই সামনে আসে কঠিন বাস্তব বাজারে আলুর দাম কার্যত তলানিতে। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে আলুর দাম নেমে এসেছে প্রায় ৩২০ টাকা প্রতি কুইন্টাল।
পরিবারের দাবি, এই বিপুল লোকসান এবং ঋণের চাপেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন রাখাল। গত কয়েকদিন ধরে সংসারেও অশান্তি চলছিল। অভিযোগ, সেই হতাশা থেকেই বাড়িতে কীটনাশক পান করেন তিনি। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। বুধবার রাতে মৃত্যু হয় রাখালের।
এই মৃত্যুর পরই এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। বহু কৃষকের দাবি, চাষের খরচ ক্রমশ বাড়লেও ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না তাঁরা। ফলে আলু চাষে (Potato farming) বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ইতিমধ্যেই আলু ফেলে বিক্ষোভ দেখাতে দেখা গিয়েছে কৃষকদের।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। বিরোধী দল ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (Communist Party of India ) এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party) সরাসরি রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে। তাদের দাবি, কৃষকেরা ন্যায্য দাম না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। অন্যদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress) -এর দাবি, একটি মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে।
খবর পেয়ে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন চন্দ্রকোণার বিধায়ক অরূপ ধরা (Arup Dhara)। তিনি বলেন, ‘রাখাল তৃণমূল কর্মী ছিলেন। তাঁর পরিবারের পাশে আমরা রয়েছি এবং সবরকমভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করা হবে।’
তবে এই ঘটনাকে ঘিরে এখন বড় প্রশ্ন উঠছে ফসল ফলিয়েও যদি কৃষক লোকসানের বোঝা বইতে বাধ্য হন, তবে সেই দায় কার? আলুর বাজারদর, কৃষিনীতি এবং চাষিদের ভবিষ্যৎ সবকিছু নিয়েই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।


