Aaj India Desk, নয়া দিল্লি: বহুবার নানা কারণে বিতর্কে জড়িয়ে অপমানিত হয়েছেন বিজেপি সাংসদ ও বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut)। সম্প্রতি সংসদে বিরোধী দলনেতার আচরণকে ‘টাপোরি’ ও ‘মাওয়ালি’র সঙ্গে তুলনা করে ফের একবার রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এলেন কঙ্গনা।
ফেব্রুয়ারি ২৭-এ ‘রাইজিং ভারত সামিট ২০২৬’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut) কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে সরাসরি আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস দল নিজেই রাহুল গান্ধীর আচরণে “লজ্জিত” এবং দলকে বাঁচাতে হলে “একটি ভালো মুখ” সামনে আনতে হবে। এদিন কঙ্গনা বলেন, সংসদে রাহুল গান্ধীর আচরণ “টাপোরি ও মাওয়ালিদের মতো” এবং বিজেপি নেতাদের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তার ধরণ “অসৌজন্যমূলক”।
সংসদের মতো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা আলাদা বিষয়, কিন্তু একজন নির্বাচিত প্রতিনিধিকে উদ্দেশ্য করে রাস্তার ভাষায় আক্রমণ করা রাজনৈতিক শালীনতারই পরিপন্থী। ব্যক্তিগত বিদ্বেষমূলক শব্দ ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ছোট করা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে দুর্বল করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মত, দেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী নেতাকে লক্ষ্য করে এমন মন্তব্য কেবল রাজনৈতিক বিরোধের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং জনসমক্ষে রাজনৈতিক ভাষার মান কতটা নিচে নেমে গেছে সেটিও স্পষ্ট করে। মতভেদ গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ, কিন্তু তা যুক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত, ব্যক্তিগত অপমানের মাধ্যমে নয়।
কঙ্গনা একই বক্তব্যে আরও দাবি করেন, স্বাধীনতার পর মহাত্মা গান্ধী কংগ্রেস দল ভেঙে দেওয়ার কথা বলেছিলেন, যা জওহরলাল নেহরু নাকি মানেননি। তাঁর মন্তব্য, “রাহুল গান্ধী হয়তো সেই ইচ্ছাই পূরণ করবেন।” এর আগেও কঙ্গনা রানাউত বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করে তীব্র মন্তব্য করেছেন। গত বছর কলম্বিয়া সফরের সময় রাহুল গান্ধীর করা কিছু বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে কঙ্গনা বলেন, তিনি “দেশের জন্য লজ্জার কারণ”।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মতাদর্শগত বিরোধ থাকলেও একজন সাংসদের এমন ভাষা গণতান্ত্রিক আলোচনার মানকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। পাশাপাশি রাজনৈতিক শালীনতা অতিক্রম করে তাঁর বার্তায় প্রকাশ পায় ঔদ্ধত্য।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut) অতীতেও একাধিক মন্তব্যের জন্য বিতর্কে জড়িয়েছেন। গত বছর হিমাচল প্রদেশে বন্যা পরিস্থিতির সময় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিজের ক্যাফে ব্যবসার ক্ষতির প্রসঙ্গ তোলায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। অনেকের মতে, জনদুর্ভোগের সময় সেই মন্তব্য সংবেদনশীলতার অভাবের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় রাজনীতিতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক আক্রমণের প্রবণতা বাড়ছে। এর ফলে নীতি, অর্থনীতি বা জনজীবনের প্রশ্নে বিতর্কের বদলে ব্যক্তিগত মন্তব্যই প্রায়শই শিরোনাম দখল করে নিচ্ছে। তাঁদের মতে, গণতান্ত্রিক রাজনীতির সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক নেতাদের ভাষা ও আচরণে সংযম অপরিহার্য। কারণ জনসমক্ষে ব্যবহৃত ভাষাই শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতির মান নির্ধারণ করে এবং তার যে ক্রমশ অবনতি হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।


