Aaj India Desk, উত্তর দিনাজপুর : উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ (Raiganj) ব্লকের মহিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শঙ্গা এলাকায় গরু পাচারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে। সকালেই গরু পাচারের অভিযোগ এবং সীমান্তের কাঁটাতারের পাশের ফসল নষ্ট হওয়া নিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে বিএসএফের বচসা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
কী বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ?
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তের কাঁটাতারের পাশের জমিতে প্রায়ই গরু পাচারের চেষ্টা হয়। এর ফলে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এই নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে বিএসএফের সঙ্গে গ্রামবাসীদের বচসা বাধে।
এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, তাঁর জমি সীমান্তের কাঁটাতারের কাছেই। রবিবার সকালে তিনি জানতে পারেন তাঁর ভুট্টা খেত নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “মাঠে গিয়ে দেখি পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে রয়েছে। মোবাইলে ছবি তুলছিলাম। তখন BSF ক্যাম্পের এক অফিসার এসে আমার মোবাইল নিতে চান। এতে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ করেন।”
মহিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য লতিফুর রহমানের দাবি, এই এলাকা দিয়ে মাঝেমধ্যেই গরু পাচারের ঘটনা ঘটে। তাঁর অভিযোগ, “গ্রামবাসীরা প্রতিবাদ করলে BSF গ্রামবাসীদের উপর চড়াও হয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা বিডিও অফিসেও অভিযোগ জানিয়েছি।” পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান দীপক বর্মণ বলেন, সীমান্তে কাঁটাতার কেটে গরু পাচারের চেষ্টা হয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন। সেই নিয়েই গ্রামবাসীদের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়। তাঁর কথায়, “এটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে।”
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
ঘটনা নিয়ে বিএসএফের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে বিএসএফ ক্যাম্পের এক আধিকারিক দাবি করেন, গরু পাচার রুখে দেওয়া হয়েছিল। এরপর পাচারকারীদের আত্মীয়রা এসে সমস্যা তৈরি করেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। রায়গঞ্জের (Raiganj) বিডিও কামালুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার সুপার সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ বলেন, সীমান্তে ঠিক কী ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হবে।
সীমান্ত এলাকায় গরু পাচার রোধের দায়িত্ব মূলত বিএসএফের ওপরই থাকে এবং সেখানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কাজ করতে হয়। ফলত সেই বিষয়ে গ্রামবাসীদের অভিযোগে তারা ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টে গ্রামবাসীদের সাথেই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছেন কেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।


