Aaj India Desk, কলকাতা : সোমবার কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন একাধিক রাজনৈতিক দল। দলগুলি নিজেদের দাবি ও অভিযোগ কমিশনের সামনে তুলে ধরে। তবে বৈঠক শেষ হতেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল সরব হয়।
সোমবার সকাল থেকেই কমিশনের ব্যস্ত কর্মসূচি শুরু হয়। কালীঘাট মন্দিরে দর্শন করার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। প্রতিটি দলকে প্রায় ১০ মিনিট করে সময় দেওয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরাও। বৈঠকে তৃনমূলের তরফে দাবি করা হয়, সংশোধনের পর লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য বানান ভুল বা নথির ছোটখাটো ত্রুটির কারণ দেখিয়ে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। এই প্রক্রিয়ায় মতুয়া, আদিবাসী, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক মানুষের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানানো হয়।
এরপর বৈঠক শেষে বেরিয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং রাজ্যসভার মনোনীত সদস্য রাজীব কুমার কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, বৈঠকে নিজেদের বক্তব্য রাখতে গেলে কমিশনের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়। তৃণমূলের দাবি, “জ্ঞানেশ কুমার কারও কথা শুনতে চান না। তিনি নিজেই বলে যাচ্ছেন। আমরা কথা বলতে গেলেই চিৎকার করছেন। আমরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি বলে কমিশনের মধ্যে রাগ রয়েছে।”
একই বৈঠকের পরে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও নির্বাচন সংক্রান্ত একাধিক দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজ্যে নির্বাচন এক দফায় করা উচিত, খুব বেশি হলে দুই দফায়। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছে। সেলিমের দাবি, প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। তাঁর প্রশ্ন, “সামান্য বানান ভুলের জন্য কি এত মানুষের নাম বাদ যেতে পারে? এই কাজ করতে গিয়ে যদি ভুল হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?” তিনি আরও বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং মতুয়া, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে কমিশনের কাছে নির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে।
তবে এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) পক্ষ থেকে এখনো কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সূত্র অনুযায়ী, ১০ মার্চ পর্যন্ত কমিশনের বৈঠক ও কর্মসূচি চলবে। তারপরেই ভোট সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কমিশনের তরফে।


