Aaj India Desk, কলকাতা: সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য জুড়ে শহরে এবং গ্রামে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড (Fire incident) ঘটছে। অধিকাংশ ঘটনায় প্রকাশ পেয়েছে যে বড় বড় ভবন ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রযোজ্য অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। এমন পরিস্থিতি সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরেই উপেক্ষিত হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
গত কয়েক সপ্তাহে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, আনন্দপুর, মালদা সহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অগ্নিকাণ্ডের (Fire incident) ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যেকটির তদন্তেই উল্লেখ করা হয়েছে, সেই স্থানে আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখার উপযুক্ত ফায়ার সেফটি ছিল না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে এমন বড় ভবন বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর জন্য রাস্তার যথাযথ ব্যবস্থা নেই। অগ্নি নির্বাপন যন্ত্রপাতি, জরুরি বের হওয়ার পথ বা আগুনের প্রাথমিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ আইন অনুযায়ী যে কোনো বড় স্থাপনা বা গুদামে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক।
পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের (Fire incident) পর খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক দোকানের রেজিস্ট্রেশন বা লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত অগ্নি নিরাপত্তা পরিদর্শন করা হয় না। সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে দায়িত্ববণ্টন অস্পষ্ট, ফলে কোন দপ্তর কোন ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে, তা পরিষ্কার নয়। এছাড়া ফায়ার ইঞ্জিন পৌঁছতে দেরি হওয়া এবং জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সময় নষ্ট হওয়ার মতো এই কাঠামোগত দুর্বলতাই একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের পেছনে মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে।
কেন এতদিন এই বিষয়গুলো প্রশাসনের নজরে আসেনি তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বড় বড় কাঠের গুদাম, বহুতল বা বাজার এলাকা যেখানে জনস্রোত বেশি, সেখানে নিরাপত্তার ত্রুটি মেনে নেওয়া যায় না। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও, এখনও পর্যন্ত কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে নাগরিকরা সরকারের কাছ থেকে সক্রিয় নজরদারি এবং কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি তুলেছেন। না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানির আশঙ্কা আরও বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


