Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা : সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে একাধিকবার শিক্ষা ব্যবস্থার (Education System) অবক্ষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের সেই বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্রই ধরা পড়ল উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে। একদিকে শিক্ষক ও কিছু ছাত্র থাকলেও স্কুল ভবন নেই, অন্যদিকে দু’তলা ভবন থাকলেও ছাত্র নেই। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা ব্যবস্থা বাঁচাতে নতুন পদক্ষেপ নিলেন স্থানীয় বিধায়ক।
শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিফলন
শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রামের পূর্বাংশে দীর্ঘদিন ধরেই পরিকাঠামোর অভাব এবং ছাত্রভর্তির সংকটে ভুগছিল দুটি সরকারি স্কুল। আব্দালপুর গভর্নমেন্ট কলোনি জুনিয়র হাই স্কুলে পাঁচজন শিক্ষক এবং একজন অশিক্ষক কর্মী থাকলেও ছাত্রসংখ্যা মাত্র ৪০। স্কুলটির নিজস্ব ভবন না থাকায় পাশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ব্যবহার করে ক্লাস চালানো হচ্ছিল। অন্যদিকে শ্রীনগর জুনিয়র হাই স্কুলের নিজস্ব জমি ও দু’তলা ভবন থাকলেও সেখানে কার্যত কোনও ছাত্র ছিল না। ২০২৪ সালে স্কুলটি মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হলেও রেজিস্টারে নাম থাকলেও নিয়মিতভাবে কোনও ছাত্র স্কুলে আসছিল না। সেখানে কেবলমাত্র একজন গেস্ট শিক্ষক কর্মরত ছিলেন।
স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে নতুন যাত্রা
এই পরিস্থিতিতে দুই স্কুলকে একীভূত করার উদ্যোগ নেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী ও স্থানীয় বিধায়ক রথীন ঘোষ। শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে আলোচনা এবং অভিভাবকদের সম্মতির পর রাজ্য শিক্ষা দপ্তর সম্প্রতি এই সংযুক্তিকরণের অনুমোদন দেয়।
শনিবার আব্দালপুর স্কুলের পাঁচজন শিক্ষক, একজন অশিক্ষক কর্মী এবং ৪০ জন ছাত্রকে শ্রীনগর হাই স্কুলে স্থানান্তর করা হয়। সেই সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় শ্রীনগর হাই স্কুলের নতুন পথ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ, মাধ্যামগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ এবং মাধ্যামগ্রাম সার্কেলের এসআই সোমা মণ্ডল।
পূর্বাঞ্চলে সরকারি স্কুলের ঘাটতি
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রামের পশ্চিমাংশে যশোর রোডের ধারে বেশ কয়েকটি নামী সরকারি এবং বেসরকারি স্কুল রয়েছে। সেখানে ভর্তির চাহিদাও বেশি। পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু শহরের পূর্বাংশে মানসম্পন্ন সরকারি স্কুলের অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা। ফলে ওই এলাকার অভিভাবকদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য ব্যস্ত যশোর রোড পার হয়ে পশ্চিমাংশের স্কুলে যেতে হত। শ্রীনগর হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা কৃষ্ণকলি চট্টোপাধ্যায় জানান, “দুই স্কুলকে একত্রিত করা সহজ ছিল না। তবে এখন আমাদের লক্ষ্য শিক্ষার মান বজায় রাখা এবং ছাত্রসংখ্যা বাড়ানো।”
জেলা শিক্ষা মহলের মতে, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় (Education System) ছাত্রসংখ্যা কমে যাওয়া, পরিকাঠামোর ঘাটতি এবং শহরাঞ্চলে ইংরেজি মাধ্যমের প্রতি বাড়তি ঝোঁকের ফলে রাজ্যের একাধিক সরকারি স্কুলে একই ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। মধ্যমগ্রামের সরকারি স্কুলের এই একীভূতকরণ সেই বৃহত্তর বাস্তবতারই একটি উদাহরণ বলে মনে করা হচ্ছে।


