Aaj India desk, মুম্বই: বলিউডে সাফল্যের গল্প মানেই অনেক সময় কম বয়সে তারকা হয়ে ওঠার কাহিনি। কিন্তু কিছু জীবনগাথা এই ধারণাকেই বদলে দেয়। তেমনই এক অনুপ্রেরণার গল্প অভিনেতা বোমান ইরানি (Boman Irani)-র। আজ যাঁর অসাধারণ কমিক টাইমিং ও শক্তিশালী অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে, সেই অভিনেতার বলিউড যাত্রা শুরু হয়েছিল ৪০ বোমান ইরানি (Boman Irani) বছর বয়সে—যখন অনেকেই মনে করেন জীবনের পথ প্রায় ঠিক হয়ে গেছে।
ছোটবেলায় জীবন মোটেই সহজ ছিল না তাঁর। বাবার মৃত্যুর পর পুরো পরিবারকে সামলে রেখেছিলেন তাঁর মা জেরবানু ইরানি। মুম্বইয়ে তাঁদের একটি ছোট ওয়েফার দোকান ছিল, আর সেই দোকান চালিয়েই সংসার টিকিয়ে রাখতেন তিনি। পরে সেই দোকান সামলানোর দায়িত্বেও হাত লাগান বোমান (Boman Irani)। জীবনে তখন আর্থিক চাপ, ঋণ আর দায়িত্ব যেখানে গ্ল্যামারের কোনো ছোঁয়া ছিল না।
এক সময় তিনি কাজ করেছেন মুম্বইয়ের বিখ্যাত Taj Mahal Palace-এ ওয়েটার ও রুম সার্ভিস কর্মী হিসেবে। কিন্তু সংগ্রামের মাঝেও হারিয়ে যায়নি স্বপ্ন দেখার ক্ষমতা।
ছোটবেলায় বোমান (Boman Irani) ভয়ানক উদ্বেগ ও তোতলামির সমস্যায় ভুগতেন। মানুষের সামনে কথা বলা তাঁর কাছে ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে মায়ের লড়াই দেখেই ধীরে ধীরে শক্ত হতে শিখেছিলেন তিনি।
পাশাপাশি তিনি ফটোগ্রাফিতেও আগ্রহী ছিলেন। নানা অনুষ্ঠানের ছবি তুলতে গিয়েই পরিচয় হয় বিখ্যাত কোরিওগ্রাফার Shiamak Davar-এর সঙ্গে। তিনিই বোমানকে (Boman Irani) থিয়েটারে আসার পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শই বদলে দেয় তাঁর জীবন।
চল্লিশের কোঠায় এসে থিয়েটারের মঞ্চে প্রথম পা রাখেন বোমান (Boman Irani), আর সেখান থেকেই তৈরি হয় তাঁর আত্মবিশ্বাসের নতুন ভিত্তি।
এরপর ধীরে ধীরে সিনেমায় সুযোগ আসে। তবে বড় মোড় ঘোরে পরিচালক Rajkumar Hirani-র ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে। ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া Munna Bhai M.B.B.S.-এ ডিন ড. জে.সি. আস্থানার চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কাড়ে। আর 3 Idiots-এ ‘ভাইরাস’ অর্থাৎ বিরু সহস্ত্রবুদ্ধের চরিত্রে অভিনয় তাঁকে এনে দেয় চিরস্থায়ী জনপ্রিয়তা।
এরপর Khosla Ka Ghosla বা PK-এর মতো ছবিতে নিজের অভিনয়ের বহুমুখিতা বারবার প্রমাণ করেছেন তিনি।
বোমান ইরানির (Boman Irani) জীবন যেন একটাই কথা মনে করিয়ে দেয়—সাফল্যের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। কখনও কখনও জীবনের সবচেয়ে বড় আলোটা জ্বলে ওঠে তখনই, যখন সবাই ভাবে সময়টা হয়তো পেরিয়ে গেছে।
বোমান ইরানির (Boman Irani) সংগ্রামের গল্পে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল তাঁর মানসিক লড়াই। ছোটবেলায় তিনি তীব্র উদ্বেগ (anxiety) ও তোতলামির সমস্যায় ভুগতেন। মানুষের সামনে কথা বলা তো দূরের কথা, সাধারণ কথোপকথনও অনেক সময় তাঁর কাছে ভীষণ কঠিন হয়ে উঠত। কিন্তু আত্মবিশ্বাসের অভাব বারবার তাঁকে থামিয়ে দিত।
কিন্তু জীবনের প্রতিকূলতার কাছে হার মানেননি তিনি। মায়ের অদম্য সাহস আর নিজের ধৈর্যই ধীরে ধীরে সেই ভয়কে শক্তিতে বদলে দেয়। থিয়েটারের মঞ্চে দাঁড়ানোই যেন তাঁর জন্য এক বড় মানসিক মুক্তি—যে মানুষ একসময় কথা বলতে ভয় পেতেন, তিনিই পরে অভিনয় দিয়ে হাজারো মানুষের হৃদয় জয় করেন।


