কলকাতা: নির্বাচনের আগে ফের একবার শিরোনামে ভরতপুরের সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir)। শাসক শিবির থেকে ধাক্কার পর ‘নিরাপত্তাহীনতায়’ ভুগছিলেন হুমায়ুন! বুধবার শাহের মন্ত্রকের তরফে তাঁকে Y+ ক্যাটিগরির নিরাপত্তা প্রদান একসঙ্গে অনেকগুলো জল্পনার আগুনকে উসকে দিয়েছে।
উপরন্তু, ভোটের আগে তাঁর দলের নাম পাল্টে হয়ে গেল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’। এই নামই মঞ্জুর করে নির্বাচন কমিশন। নতুন দল গঠনের পর থেকেই নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আবেদন করার পর তাঁকে ওয়াই প্লাস নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।
হুমায়ুনের সঙ্গে থাকছেন ১২ সদস্যের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দল, যার মধ্যে রয়েছেন ১ জন ইন্সপেক্টর, ১ জন সহকারী ইন্সপেক্টর এবং ১০ জন কনস্টেবল। গতকালই এই নিরাপত্তা টিম হুমায়ুনের মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের বাসভবনে পৌঁছে গিয়েছে। এই নিয়ে চড়ছে জল্পনার পারদ। শাসক শিবির ছাড়ার পর হুমায়ুনের (Humayun Kabir) পাশে ছায়ার মত রয়েছে বিজেপি, এমনটাই জল্পনা চলছিল বিভিন্ন মহলে। সাসপেন্ডেড বিধায়কের ওয়াই প্লাস নিরাপত্তা মঞ্জুরিতে সেই জল্পনার আগুনেই ঘৃতাহুতি পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হুমায়ুন কবীরকে ‘চোর’, ‘দালাল’ বলে কটাক্ষ
এই আবহে বৃহস্পতিবার কলকাতার কিডস্ট্রিটে MLA হস্টেলের সামনে সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir)। তখনই পাশ দিয়ে যাওয়া এক বাইক আরোহী তাঁকে “চোর”, “দালাল” বলে কটাক্ষ করেন। যা শুনে রীতিমত রেগে আগুন হয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনেই ওই বাইক আরোহীকে রীতিমত ধাওয়া করেন হুমায়ুন কবির। “মমতার চটি চাটা” বলে পাল্টা কটাক্ষ ছুঁড়তে থাকেন ভরতপুরের সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক।
“গদ্দার”, “দালাল” বলেছিলেন অভিষেকও
প্রসঙ্গত, এর আগে বহরমপুরের গির্জার মোড়ে রোড শো থেকে হুমায়ুন কবিরকে (Humayun Kabir) তীব্র আক্রমণ করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বেলডাঙা হিংসার ঘটনার মাঝেই ওই রোড শো থেকে “হিংসার নেপথ্যে হুমায়ুন ও বিজেপির হাত রয়েছে”, বলে দাবী করেছিলেন অভিষেক।
শুধু তাই নয়, নামোল্লেখ না করলেও হুমায়ুন কবিরকে ‘বিজেপির দালাল’ এবং ‘গদ্দার’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। বলা বাহুল্য, আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল-বিজেপি সংঘাতের মাঝে নতুন মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন হুমায়ুন কবির। লোকসভা নির্বাচনে ‘ভোট কাটুয়া’ হিসেবে দুর্নাম রয়েছেই তাঁর। এবার বিধানসভা নির্বাচনে কি করেন তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক, সেইদিকেই তাক্লিয়ে রাজ্যবাসী।


