27.4 C
Kolkata
Tuesday, March 3, 2026
spot_img

‘ডাবল ইঞ্জিন’ নিয়ে তীব্র আক্রমণ : বিজেপি শাসিত রাজ্যে দলিত-আদিবাসী নির্যাতন ইস্যুতে সরব অভিষেক !

Aaj India Desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় জনসংযোগে এবার নতুন কৌশল নিল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। সোমবার তফসিলি সংলাপ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে দলিত ও আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

পরিসংখ্যানের রাজনীতি

সোমবার দলীয় এসসি, এসটি ও ওবিসি সেলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘তফসিলি সংলাপ’ সম্মেলনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ২০২৩ সালের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী দলিতদের উপর অত্যাচারের ঘটনায় দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে উত্তরপ্রদেশ (১৫,১৩০টি মামলা)। দ্বিতীয় স্থানে রাজস্থান (৮,৪৪৯) এবং তৃতীয় স্থানে মধ্যপ্রদেশ (৮,২৩২)। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, “উত্তরপ্রদেশ সোনার পদক, রাজস্থান রুপোর পদক এবং মধ্যপ্রদেশ ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে। তিনটিই ডাবল ইঞ্জিন সরকার।”

আদিবাসীদের উপর নির্যাতনের ক্ষেত্রেও একই চিত্র উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই তালিকায় শীর্ষে মণিপুর (৩,৩৯৯), তার পর মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ব্যর্থতা তথ্যেই স্পষ্ট।

লক্ষ্মীর ভান্ডারকে হাতিয়ার

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একদিকে আম্বেদকরের নাম উচ্চারণ নিয়ে মন্তব্য করছেন, অন্যদিকে তাঁর নিজের মন্ত্রকের তথ্যই দলিত ও আদিবাসীদের নিরাপত্তাহীনতার ছবি তুলে ধরছে। এই দিন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর কথাও উল্লেখ করেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর দাবি, রাজ্যের তফসিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা এই প্রকল্পের মাধ্যমে মাসে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা এবং বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন।

নির্বাচনের আগে জোরদার জনসংযোগ 

এই বক্তব্যের পেছনে দলিত ও আদিবাসী ভোটারদের মধ্যে বার্তা পৌঁছে সংগঠনকে মজবুত করাই তৃনমূল কংগ্রেসের (TMC) মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি ‘ডাবল ইঞ্জিন’ মডেলকে চ্যালেঞ্জ করছেন, পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিকে বিকল্প উন্নয়ন মডেল হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে জেলা ভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করে তফসিলি সংলাপ কর্মসূচি সংগঠিত করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এই কর্মসূচির প্রভাব থাকতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। অর্থাৎ নির্বাচনের আগে দলিত ও আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন