কলকাতা: ঘাসফুল শিবিরের দলবদলু, ২০২৫-এ বিয়ে। বিয়ের পর সস্ত্রীক পৌঁছে যান দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে। সেই সময় রব ওঠে, এবার কি তাহলে বিজেপিতে ভাঙন ধরাবেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)? বিয়ের পর দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার পর ভোটের আগে কামব্যাক করেছেন বিজেপির দাপুটে নেতা দিলীপ ঘোষ। তবে এবার একা নন।
রাজনীতির ময়দানে নামার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন তার স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদারও (Rinku Majumdar)। কারণ হিসেবে জানিয়েছেন, প্রকাশ্যে না হলেও দলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ আছে। দিলিপ ঘোষের স্ত্রী (Dilip Ghosh) হিসেবে নয়, তাঁর যোগ্যতাই যেন টিকিট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান মাপকাঠি হয়, বায়োডেটায় সেই কথা উল্লেখ করেছেন রিঙ্কু মজুমদার (Rinku Majumdar)।
বিজেপিতে পরিবারতন্ত্রের ছায়া?
তবে জল্পনার পারদও সেই মাত্রায় চড়ছে। দিলীপ ঘোষকে বিয়ের পরই কেন রাজনীতিতে আসতে চাইছেন রিঙ্কু (Rinku Majumdar)? যে পরিবারতন্ত্র নিয়ে তৃণমূলকে প্রায়শ্যই বেঁধে বিরোধী দল বিজেপি, সেই পদ্মশিবিরেই কি এবার তবে পরিবারতন্ত্ররের ছায়া? স্ত্রীয়ের টিকিট পাওয়া নিয়ে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির অবশ্য বক্তব্য, “ও আমার আগে থেকে রাজনীতি করে।”
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ছাব্বিশের ভোটে লড়ার জন্য রিঙ্কুর পছন্দের আসনের তালিকায় রয়েছে মেদিনীপুর, বীজপুর এবং নিউটাউন। এই আসনের কোনও একটিতে যদি টিকিট পান, তাহলে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বরা কি তা মেনে নেবে? না-কি সিনে জগতে বহিরাগতদের মতই অবস্থা হবে দিলীপ-জায়ার?
ময়দানে নামবেন দিলীপও?
প্রসঙ্গত, মেদিনীপুরের দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে খরগপুর সদর থেকে যেতেন। এরপর ২০১৯-এর লোকসভা ভোটেও মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতে সাংসদ হন। কিন্তু এরপর তাঁর নিজের গড় থেকে সরিয়ে দুর্গাপুরে পাঠানোতেইও গেরো বাঁধে। ২০২৪-এ দুর্গাপুরে হারের পরই দলের অভ্যন্তরে খানিক কোণঠাসা হয়ে যান দিলীপ (Dilip Ghosh) ।
তার উপর বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে যাওয়া, আরও সন্দেহভাজন করে তোলে তাঁকে। এখন নির্বাচনের আগে সক্রিয় দেখাচ্ছে তাঁকে। ফের খরগপুর থেকে লড়ার ইচ্ছাপ্রকাশও করেছেন। এখন দল এই সম্পতিকে টিকিট দেয় কিনা, সেটাই দেখার।


