স্নেহা পাল, দার্জিলিং : সামনেই বিধানসভার ভোট। এর মধ্যেই দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ি জুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ঘিরে শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর।
ভাইরাল অডিওতে শোনা যায়, ফোনের এক প্রান্তে রয়েছেন এক পুলিশ আধিকারিক এবং অন্য প্রান্তে সাংসদ রাজু বিস্তা। কথোপকথনের এক পর্যায়ে সাংসদকে বলতে শোনা যায়, “তুমি জানো কার সঙ্গে কথা বলছ? বাইরে থাকা সব গুন্ডাকে বলে দাও, আমার থেকে বড় গুন্ডা আর কেউ নেই।” এরপর দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তারকে এক পুলিশ আধিকারিককে ফোনে রীতিমত হুমকি দিতে শোনা যায়। এই ভাষা নিয়েই তৈরি হয় বিতর্ক।
সেই কথোপকথনের অডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট ভাইরাল অডিওর সত্যতা এখনও যাচাই করা যায়নি। তবু এই ঘটনাকে ঘিরে পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের অন্তর্গত ঝামকালাল জোৎ গ্রামে। গত ডিসেম্বর মাসে জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে গুরুতর অবস্থায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি সন্তানের জন্ম দিলেও পরে শিশুটির মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার সেই মহিলার বাড়িতে যান সাংসদ রাজু বিস্তা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির স্থানীয় বিধায়ক ও কর্মীরা। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সমর্থনের বার্তা দেওয়ার পর এরপর তিনি তদন্তের অগ্রগতি জানতে এক পুলিশ আধিকারিককে ফোন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী সেই কথোপকথনেই হুমকির ভাষা ব্যবহার করা হয়।
ঘটনা নিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলা চেয়ারম্যান সঞ্জয় তিবরিয়াল বলেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানে আইন আইনের মতোই চলবে। হুমকি দিয়ে কিছু হবে না।”
সিপিএমের প্রাক্তন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ সভাপতি তাপস সরকার বলেন, ভাইরাল অডিওতে ব্যবহৃত ভাষা সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তবে এই ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিজেপির তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ প্রশাসনও অডিওর সত্যতা যাচাই নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি।


