মালদা: ক্ষমতার স্বাদের কাছে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ যে কোনও বাধাই নয়, তাই প্রমাণ করেছিল মালদহের মানিকচক ব্লকের ধরমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত (Panchayat)। ১০ আসন বিশিষ্ট এই পঞ্চায়েতে (Panchayat) নির্বাচনের ফলাফলে কংগ্রেস ও বিজেপি চারটি করে এবং তৃণমূল দুটি আসন পায়। সংখ্যার অঙ্কে এগিয়ে থাকতে বিজেপির হাত ধরে বোর্ড গঠন করে কংগ্রেস। কিন্তু এখন সেই বোর্ডের অন্দরেই বিস্ফোরণ।
অভিযোগ, কয়েক মাস আগে স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় লিচ পিট নির্মাণের টেন্ডার (Tender) প্রক্রিয়া অন্যান্য সদস্যদের অন্ধকারে রেখে সম্পন্ন করা হয়। সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ তুলে কংগ্রেস ও বিজেপির একাংশ উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত জেলা প্রশাসককে টেন্ডার প্রক্রিয়া স্থগিতের নির্দেশ দেয়। পরে জেলা প্রশাসনও টেন্ডার বাতিলের নির্দেশ দেয় পঞ্চায়েতকে (Panchayat)।
সদস্যদের দাবি, বাতিল হওয়া সেই কাজই নাকি গোপনে শুরু করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সাদা রেজুলেশনে স্বাক্ষর করাতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং স্বাক্ষর না করলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি ভুয়ো স্বাক্ষর দেখিয়ে টেন্ডার সম্পন্ন করার পরিকল্পনার অভিযোগও উঠেছে প্রধানের বিরুদ্ধে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান ঘনিষ্ঠরা বলে জানা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, ক্ষমতার সমীকরণে গড়া জোট আদপে কতটা স্থায়ী? অনেকের মতে, রাজনীতিতে সংখ্যা মেলাতে ভিন্ন মতের দল একসঙ্গে এলেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও আর্থিক বিষয় সামনে এলেই প্রকৃত মতভেদ প্রকাশ্যে চলে আসে।
রাজনীতির চেনা বাস্তব বলছে, ক্ষমতার স্বার্থে অসম্ভব জোটও সম্ভব হয়। কিন্তু সেই ক্ষমতার কেন্দ্রেই যখন স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন জোটের ভিত কতটা মজবুত থাকে—সেই উত্তরই খুঁজছে ধরমপুর।ঘটনাকে ঘিরে তদন্তের দাবি উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।


