Aaj India Desk, কলকাতা: রাজনীতির ময়দানে মতাদর্শ আলাদা, রাজনৈতিক লড়াইও দীর্ঘদিনের! অথচ এবার এক ইস্যুতে একই সুর তৃণমূল, সিপিএম ও কংগ্রেসের। এসআইআর-এর জেরে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ ঘিরে রাজ্যে পুরভোট পিছনোর দাবিতে একজোট বিরোধীরা। সোমবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনার শ্রীকৃষ্ণ গুপ্তের কাছে জমা পড়ল যৌথ স্মারকলিপি। দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের কোনও পুরসভাতেই যেন ভোট না হয়। পাশাপাশি, এসআইআর সংক্রান্ত আপিল ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন আবেদনগুলির নিষ্পত্তি করে যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকায় ফেরানোরও আর্জি জানিয়েছে তারা। (SIR voter List)
রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে সচরাচর পরস্পরের বিরোধী অবস্থানে থাকা তৃণমূল, সিপিএম ও কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা এবার পুরভোটের আগে একই দাবিতে স্বাক্ষর করলেন। স্মারকলিপিতে সই করেছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়, সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য শমীক লাহিড়ী এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তাঁদের সঙ্গে সামিল হয়েছেন একাধিক রাজনৈতিক দল ও নাগরিক অধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা। (SIR voter List)
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার আগে পুরনির্বাচন হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই কলকাতা পুরনিগম, হাওড়া পুরনিগম-সহ রাজ্যের সমস্ত পুরসভার নির্বাচন আপাতত স্থগিত রাখার আর্জি জানানো হয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেই পুরনির্বাচন করানোর দাবি জানিয়েছে বিরোধী দলগুলি। তাদের বক্তব্য, এর ফলে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য নাগরিকদের নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি হবে। (SIR voter List)
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলির প্রায় সব ক্ষেত্রেই আবেদনকারীদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির পক্ষে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই বিচারাধীন আবেদনগুলির নিষ্পত্তি না করে পুরভোট করানো হলে বহু যোগ্য নাগরিক ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবেদনকারীরা।
তৃণমূল, সিপিএম ও কংগ্রেস ছাড়াও সিপিআইএমএল (লিবারেশন), নাগরিক সমন্বয় মঞ্চ এবং সংগ্রামী গণমঞ্চের প্রতিনিধিরা স্মারকলিপিতে সই করেছেন। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন আইএএস ও সাংসদ জহর সরকার এবং নাগরিক অধিকার কর্মী সুজাত ভদ্রও। পুরভোটের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে এই যৌথ উদ্যোগ রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে নির্বাচন পিছনোর দাবি নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।


