কলকাতা: JEE পরীক্ষায় ভালো র্যাঙ্ক করে রাজ্যের সরকারি কলেজে চার বছরের বি-টেক (B.Tech) পড়তে খরচ পড়ে প্রায় ১৫ হাজার থেকে দেড় লক্ষ টাকা। বেসরকারি কলেজের ক্ষেত্রে সেই টাকার অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় ৪ লক্ষ থেকে ১০ এমনকি ১২ লক্ষ টাকায়। এত টাকা খরচ করে ডিগ্রি অর্জন করেও মিলছে না চাকরি!
পশ্চিমবঙ্গের চাকরির বাজারের অবস্থা কিছুটা এমনটাই, বলে অভিযোগ তোলেন অভিভাবক থেকে শুরু করে যুব সমাজ। বাংলায় সেই B.Tech ডিগ্রির মূল্য ১৫০০ টাকা! রবিবার থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে যুবসাথী (Yuvasathi) ক্যাম্প। এই আবহে পশ্চিমবঙ্গের যুব সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক মর্মান্তিক চিত্র উঠে এল। ছেলেকে বি-টেক পড়িয়ে মাসিক দেড় হাজার টাকা ভাতার জন্য যুবসাথীর ফর্ম পূরণ করছেন এক মা!
কান্নায় ভেঙে পড়ে ওই মা জানান, তাঁর ছেলে বি-টেক পাশ করে কাজের আশায় বাইরে আছে। যুবসাথীর (Yuvasathi) ফর্ম পূরণের কাজ শুরু হয়েছে শুনে, মা-কে ফর্ম পূরণ করতে বলেন তিনি। বি-টেক পাশ ওই যুবকের মা বলেন, “ছেলে বেকার। মাসে ১৫০০ টাকা পাওয়ার আশায় এই যুবসাথীর ফর্ম পূরণ করছি। এটা যে কতটা দুঃখের, ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না”। ঘটনা নিয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিজেপি। বিরোধী দলের তোপ, “মা-মাটি-মানুষ সুযোগ চেয়ে বেকারত্ব পাচ্ছে। চাকরি চায় বাংলা”।
ভাতার বিরুদ্ধে রাজপথে মিছিল
অন্যদিকে, সোমবার সকালে কলকাতার রাজপথে ফের চাকরিপ্রার্থীরা। ডিগ্রি আছে, চাকরি নেই! স্লোগান তুলে বিক্ষোভ। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে আন্দোলনকারীরা বলেন, “প্রাইমারি শিক্ষকদের মানুষ বলে মনে করা হয় না। বর্তমানে কার্যকর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় NIOS উত্তীর্ণ ডিএলএড ডিগ্রি প্রাপ্তদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে”। এদিন NIOS উত্তীর্ণরা বিকাশভবন অবধি মিছিল করছেন।
জেলায় জেলায় যুবসাথী ক্যাম্পে দীর্ঘ লাইন
ভোটের মুখে রাজ্যের ২৯৪ টি ক্যাম্পে যুবসাথীর ফর্ম ফিলাপ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় একাধিকবার চাকরির পরীক্ষা দিয়ে ক্লান্ত যুবক যুবতীরা যুবসাথীর (Yuvasathi) ফর্ম নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের ক্ষোভ, “চাকরি তো হচ্ছে না। এই ১৫০০ টাকাই এখন ভরসা”। ফর্ম নিতে আসা এক স্নাতকোত্তীর্ণ বলেন, “ভাতা সাময়িক সমাধান। তবে কর্মসংস্থানের তো কোনও বিকল্প নেই।”


