কলকাতা: বিগ বসের (Bigg Boss Bangla) দুর্গে এখন বেশ চর্চায় লাফটারসেন নিরঞ্জন মণ্ডল (Laughtersane)। কখনও তাঁর স্পষ্ট কথা, কখনও ব্যক্তিগত জীবনের খোলামেলা স্বীকারোক্তি, সব মিলিয়ে দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি। আর সেই নিরঞ্জনের মুখেই বারবার উঠে এসেছে একটি নাম, মৈনাক। কে এই মৈনাক? কীভাবে তৈরি হল তাঁদের সম্পর্কের রসায়ন? প্রেমের গল্পটা কিন্তু একেবারেই চেনা ছকে বাঁধা নয়!
প্রোপোজ়াল নেই, ডেটিং নেই, তবু প্রেম!
সম্পর্ক নিয়ে কখনওই রাখঢাক করেননি নিরঞ্জন (Laughtersane)। এক সাক্ষাৎকারে মৈনাকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে জানিয়েছেন, কেউ কাউকে সেভাবে প্রোপোজ করেননি তাঁরা। এমনকি প্রথাগত ডেটিংয়ের গল্পও নেই তাঁদের ঝুলিতে। বরং একসঙ্গে থাকতে থাকতে, একে অপরকে বুঝতে বুঝতেই তৈরি হয়েছে তাঁদের বন্ধন। কখন যে বন্ধুত্বের গণ্ডি পেরিয়ে সম্পর্ক অন্য মাত্রা পেয়েছে, তা যেন আলাদা করে ঘোষণার প্রয়োজনই পড়েনি!
যখন পাশে ছিল না পরিবার, ছিল না কাজও!
জীবনের একটা সময় কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল নিরঞ্জনকে (Laughtersane)। পরিবার পাশে ছিল না, কাজের সুযোগও ছিল না। সেই অনিশ্চয়তার সময়েই মৈনাকের সঙ্গে পরিচয় তাঁর। নিরঞ্জন জানিয়েছেন, মৈনাক তাঁকে নিজের বাড়িতে থাকার জায়গা করে দিয়েছিলেন। শুধু আশ্রয় নয়, কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে কাজ করার সুযোগও করে দিয়েছিলেন।
এমনকি ধরাবাঁধা ন’টা পাঁচটার চাকরির পিছনে না ছুটে নিজের স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়ার সাহসও জুগিয়েছিলেন মৈনাক। জীবনের কঠিন সময়ে কারও এমনভাবে পাশে থাকা যে কতটা মূল্যবান, তা নিরঞ্জনের কথাতেই স্পষ্ট।
ছেলেবেলার ক্ষত, ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক
নিরঞ্জনের জীবন অবশ্য সবসময় সহজ ছিল না। ছোটবেলায় এক প্রতিবেশী যুবকের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে একটি সম্পর্কে জড়ালেও সেখানেও এসেছিল বড় ধাক্কা। নিরঞ্জনের কথায়, তাঁর প্রেমিকের বিয়ের খবর তিনি জানতে পারেন বিয়ের মাত্র এক সপ্তাহ আগে। সেই সম্পর্ক থেকে শেষ পর্যন্ত সরে আসতে হয় তাঁকে।
আজ বিগ বসের (Bigg Boss Bangla) ঘরে নিরঞ্জনের মুখে বারবার মৈনাকের নাম শুনে কৌতূহলী দর্শক। তাঁদের সম্পর্কের গল্পে নেই কোনও নাটকীয় প্রস্তাব, বরং রয়েছে পাশে থাকা, ভরসা দেওয়া আর একসঙ্গে পথ চলার গল্প। নিরঞ্জনের (Laughtersane) বিশ্বাস, ভালোবাসা জোর করে তৈরি করা যায় না। কখনও কখনও জীবনের কঠিন সময়ে পাশে থাকা মানুষটিই ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন সবচেয়ে আপন।


