Aaj lndia Desk, কলকাতা: পুজোর বুক স্টল ভাঙার অভিযোগ ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক তুঙ্গে, তখনই বই বিক্রির হিসাব সামনে এনে নতুন দাবি করল সিপিএম (CPIM)। বাম নেতৃত্বের বক্তব্য, একাধিক জায়গায় স্টল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠলেও বই বিক্রিতে ভাটা পড়েনি। বরং কয়েকটি এলাকায় গত বছরের তুলনায় বিক্রির অঙ্ক প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। হাওড়া থেকে মুর্শিদাবাদ, শান্তিপুর থেকে শিলিগুড়ি বিভিন্ন জায়গার পরিসংখ্যান তুলে ধরে এই দাবি করেছে দল। যদিও সব স্টলের চূড়ান্ত হিসাব এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
যাদবপুরে স্টল ভাঙার অভিযোগ, তবু বই বিক্রিতে জোর
পুজোর আগে থেকে উৎসবের দিনগুলিতে রাজ্যের একাধিক জায়গায় সিপিএমের (CPIM) বুক স্টল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল। যাদবপুরে (Jadavpur) বুলডোজার দিয়ে বইয়ের স্টল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করে বামেরা। সেই ঘটনার পরেও বই বিক্রি বেড়েছে বলে দাবি তাদের। দলের বক্তব্য, স্টল ভাঙার চেষ্টা বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমাতে পারেনি। বরং এই পরিস্থিতিতে আরও অনেকে বুক স্টলের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
হাওড়া-মুর্শিদাবাদে কত টাকার বই বিক্রি?
হাওড়ার (Howrah) এক সিপিএম নেতার দাবি, এ বছর পুজোয় জেলায় দলের বুক স্টলগুলি থেকে ১০ লক্ষ টাকারও বেশি বই বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদে (Murshidabad) মোট ১৯টি স্টল থেকে ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ৬৪১ টাকার বই বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় নেতৃত্ব। তাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এই অঙ্ক প্রায় ১ লক্ষ টাকা বেশি।
শান্তিপুরের ফুলিয়াতেও (Fulia, Shantipur) বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে বলে দাবি বামেদের। গত বছর সেখানে ৯ হাজার ৪৪৭ টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। এ বছর সেই অঙ্ক বেড়ে হয়েছে ১৮ হাজার ৯৭২ টাকা। অর্থাৎ, প্রায় দ্বিগুণ বিক্রির হিসাব সামনে এসেছে।
শিলিগুড়িতে ১৫ হাজার থেকে ৬৮ হাজার, বাড়ল বিক্রি
উত্তর দিনাজপুরের (Uttar Dinajpur) সাতটি বুক স্টল থেকে ৭৭ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়েছে বলে দাবি সিপিএমের। শিলিগুড়ির (Siliguri) মূল স্টলে গত বছর বিক্রির অঙ্ক ছিল ১৫ হাজার টাকা। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ হাজার টাকা। পাশাপাশি, মহকুমার অন্য ১৯টি স্টলেও বই বিক্রি বেড়েছে বলে দাবি দলের নেতৃত্বের। তবে এই এলাকার সম্পূর্ণ হিসাব এখনও মেলেনি। যাদবপুরেও রেকর্ড বই বিক্রির দাবি করেছে সিপিএম, যদিও সেখানকার নির্দিষ্ট অঙ্ক এখনও সামনে আসেনি।
‘টাকার অঙ্ক নয়, আদর্শের লড়াই’, বললেন কলতান
সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত (Koltan Dasgupta) বলেন, বই বিক্রির চূড়ান্ত হিসাব পেতে আরও দু’দিন সময় লাগবে। তাঁর দাবি, যে পরিসংখ্যান সামনে আসবে, তা বুক স্টল ভাঙতে আসা লোকেদের কাছে জবাব হয়ে উঠবে। তবে তাঁর মতে, এই লড়াই শুধু টাকার অঙ্কের নয়, বরং বই বিক্রি ও আদর্শের লড়াই। হামলার অভিযোগ ওঠা জায়গাগুলিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বুক স্টলের জন্য জায়গা দিতে এগিয়ে এসেছেন বলেও জানান তিনি।
বুক স্টল বিতর্কে কী বলছেন বিজেপি ও আরএসএস নেতারা?
বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী (Kaustav Bagchi) বলেছেন, বই বা বুক স্টলের উপর আক্রমণ কোনওভাবেই কাম্য নয়। তবে তাঁর অভিযোগ, সিপিএমের কিছু বক্তব্য মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। বিজেপি নেতা স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta) আগেই বামেদের বইয়ের স্টলে হামলার নিন্দা করেছিলেন। আরএসএস নেতা জিষ্ণু বসু (Jishnu Basu)-র বক্তব্য, বিরোধী মত প্রকাশে বাধা দেওয়া অন্যায়।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেছিলেন, বইয়ের সঙ্গে সিপিএমের রাজনীতি মিশিয়ে ফেলা হচ্ছে। তাঁর দাবি, সরকার বইবিরোধী নয় এবং প্রশাসন ও কর্পোরেশন আদালতের নির্দেশ মেনেই পদক্ষেপ করেছে।
সব মিলিয়ে, পুজোর বুক স্টল ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই এখন নজর সিপিএমের চূড়ান্ত বিক্রির হিসাবের দিকে। তবে দলীয় নেতৃত্বের দাবি, বই বিক্রির এই পরিসংখ্যানের বাইরেও এ বছর নতুন অনেক মানুষ তাদের বুক স্টলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।


