Aaj India Desk, কলকাতা : দুর্গাপুজোয় একসময় নাকতলা উদয়ন সংঘের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। পুজোর দিনগুলিতে তাঁকে ঘিরে থাকত পরিচিতদের ভিড়। কিন্তু গ্রেপ্তারি ও জেলজীবনের পর বদলে গিয়েছে সেই ছবি। ২০২৬ সালের দুর্গাপুজো কাটছে নাকতলায় নিজের বাড়িতেই। বর্তমানে কোনও পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত নন তিনি, নেই পুজো উদ্বোধনের আমন্ত্রণও। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ার অপেক্ষাতেই এ বার তাঁর পুজো কাটছে।
কার কথা মনে পড়ছে পার্থর ?
তৃণমূলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়েই তাঁর ‘পুরোনো বন্ধু’ মুকুল রায়ের অভাবের কথা বলেছেন পার্থ (Partha Chatterjee)। তাঁর দাবি, মুকুল রায় সুস্থ থাকলে দলের বর্তমান সঙ্কট সামলাতে পারতেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশপাশের নেতারা তাঁকে ভুল পথে পরিচালিত করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। পাশাপাশি, ভুল থেকে শিক্ষা না নেওয়ার জন্যও দলনেত্রীকে কটাক্ষ করেছেন পার্থ।
পুজোর পরিচিত ছবি বদলেছে তৃণমূলেও
শুধু পার্থ নন, এ বার দুর্গাপুজোয় তৃণমূলের একাধিক পরিচিত নেতার উপস্থিতিতেও বদল দেখা যাচ্ছে। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী অস্ত্রোপচারের পর অসুস্থ থাকায় আগের মতো পুজোর অনুষ্ঠানে যেতে পারছেন না। যদিও পাড়ার পুজো ‘ঐকতান’-এ মাঝেমধ্যে যাচ্ছেন তিনি এবং পুজোর চার দিন সেখানে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ভাই সন্দীপ বক্সী। অন্যদিকে, সাংসদ সৌগত রায় কলেজ স্কোয়ারের পুজো কমিটির সভাপতি হয়েও এ বার সেখানে থাকছেন না। তাঁর অভিযোগ, পুজো কমিটিতে বিজেপির নেতারা কর্তৃত্ব ফলাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে তিনি কলকাতা ছেড়ে দিল্লির করোলবাগের একটি পুজো কমিটির আমন্ত্রণে যোগ দিতে যাচ্ছেন। সুরুচি সংঘের পুজোর সঙ্গে অরূপ বিশ্বাসের নামও এ বার আর আগের মতো যুক্ত নেই। অন্যদিকে, চেতলা অগ্রণীর পুজোর সঙ্গে ফিরহাদ হাকিমের যোগাযোগ থাকলেও তাঁর ভূমিকা সীমিত। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ বার নিজেও কোন দুর্গাপুজো উদ্বোধন করেননি। কালীঘাট মিলন সংঘের পুজোমণ্ডপে গিয়ে দুই শিশুকে দিয়ে ফিতে কাটিয়েছেন তিনি।
একসময় রাজনৈতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা একাধিক তৃনমূল নেতাদের এ বারের দুর্গাপুজো অনেকটাই আলাদা। নাকতলার বাড়িতে থাকা, পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ার অপেক্ষা এবং মুকুল রায়কে স্মরণ সব মিলিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee) পুজোর রুটিনে বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। অন্যদিকে, দলের অন্যান্য প্রবীণ নেতার পুজোয় অনুপস্থিতিও নজর কাড়ছে।


