Aaj India Desk, কলকাতা: গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র পাশে দাঁড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারির প্রতিবাদ জানিয়ে সমাজমাধ্যমে নিজের মত প্রকাশ করেছেন তিনি। মমতার বক্তব্য, এই গ্রেফতারির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন ঘটনা কোনওভাবেই সমর্থন করা যায় না বলে জানিয়েছেন তিনি।
মমতা লিখেছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য আগের প্রজন্মের মানুষও লড়াই করেছেন। সেই লড়াই আগামী দিনেও চালিয়ে যেতে হবে। তাঁর মতে, ভয় দেখিয়ে একটি গোটা প্রজন্মকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সংবিধান যে অধিকার দিয়েছে, তা কখনও ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। দেশের নানা প্রান্তে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। পাশাপাশি, বাংলায় ১৪ হাজার মানুষ পুলিশি ও রাজনৈতিক অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি
করেছেন মমতা।
তাঁর বক্তব্য, যে সরকার মানুষের জন্য, মানুষের দ্বারা পরিচালিত হওয়ার গণতান্ত্রিক আদর্শ ভুলে গিয়েছে, সেই সরকারের বিদায়ের সময় এগিয়ে এসেছে। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে মমতা বার্তা দিয়েছেন, লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতীকে তিনি পাশে থাকার আশ্বাস দিচ্ছেন। গণতন্ত্র এবং দেশের স্বার্থে সকলকে একসঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। শেষে ‘জয় হিন্দ’, ‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের মাধ্যমে সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন।
কেন গ্রেফতার করা হল সিজেপি নেতাদের?
যন্তরমন্তরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ এবং কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির ১৪ জন সদস্যের বিরুদ্ধে দু’টি এফআইআর করেছে দিল্লি পুলিশ। দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাঁদের তিহাড় জেলে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, দলের আর এক সদস্য অজিঙ্ক শিন্ডেকে আগামী ছ’মাস শান্তি বজায় রাখা এবং ভালো আচরণ করার মুচলেকা দিতে হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
দিল্লি পুলিশের দাবি, গত ১৩ অক্টোবর অনুমতি ছাড়াই যন্তরমন্তরে প্রবেশ করেন সিজেপি-র সদস্যেরা। পুলিশ জানিয়েছে, একটি ব্যক্তিগত জায়গা দিয়ে ঢুকে সৌরভ, আশুতোষ, অজিঙ্ক-সহ দলের অন্য সদস্যেরা যন্তরমন্তরে পৌঁছন। তাঁদের আটকানোর চেষ্টা হলে পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যারিকেড ভেঙে যন্তরমন্তরে ঢুকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে।


