স্নেহা পাল, নদিয়া: এর আগে পুনেতে কাজ করতে গিয়ে এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এরপর পূর্ব বর্ধমানের এক পরিযায়ী শ্রমিকের ঝুলন্ত দেহও উদ্ধার করা হয় গুজরাত থেকে। এর মধ্যেই আবার বিজেপি শাসিত ওড়িশায় কাজ করতে গিয়ে পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগ তুললেন এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক।
আক্রান্ত সুজয় পাল (Sujay Pal) নদিয়া জেলার শান্তিপুর থানার ঘোরালিয়া মঠপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি গত ১৫ বছর ধরে ওড়িশার ভজনগঞ্জ এলাকায় হকার হিসেবে কাজ করেন। সম্প্রতি গভীর রাতে দরজা ভেঙে তাঁকে আটক করতে আসে পুলিশ। যথাযথ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বাঙালি হওয়ায় মারধর ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে জানান সুজয় পাল (Sujay Pal)।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আধার কার্ড, ভোটার কার্ডসহ সব নথি দেখানো হলেও পুলিশি তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চলেছে। একই সঙ্গে সুজয়ের মালিকসহ একাধিক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিককে গত ১৫ দিন ধরে আটক রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ।
সুজয় পাল (Sujay Pal) সামাজিক মাধ্যমে নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা প্রকাশ করেন। খবর পৌঁছাতেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁর মা ফুলঝরা পাল ও বাবা সুকুমার পাল। এরপরেই তাঁরা কলকাতা পুলিশের কাছে সুজয়কে নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে আনার আবেদন করেন।
উল্লেখ্য, গত বছর থেকেই পরপর এমন অভিযোগ সামনে আসায় পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। খেটে খাওয়া বাঙালি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবিও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।


