Aaj India Desk,উত্তর চব্বিশ পরগনা: দুর্গাপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবহের পাশাপাশি উঠে এল রাজনীতির প্রসঙ্গও। বনগাঁর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্বতন বামফ্রন্ট ও তৃণমূল সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দেশের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (Citizenship Amendment Act বা CAA) এবং সীমান্ত সুরক্ষার মতো একাধিক বিষয়কে সামনে রেখে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে সতর্ক থাকার বার্তাও দেন।
‘ছারপোকা’, ‘আরশোলা’ মন্তব্যে কাদের নিশানা?
অনুষ্ঠানে ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার কথা বলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দেশের ভিতরে থেকে ভারতকে দুর্বল করার চেষ্টার অভিযোগ। এই প্রসঙ্গেই ‘ছারপোকা’ ও ‘আরশোলা’ শব্দ ব্যবহার করে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবিকে কেন্দ্র করেও আন্দোলনকারীদের কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। দেশের ঐক্য ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সকলকে একজোট হওয়ার আবেদন জানান তিনি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর হাত শক্ত করার বার্তাও দেন।
সিএএ ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে সরব
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও পূর্বতন সরকারগুলিকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, অনুপ্রবেশ রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং সীমান্তে নিরাপত্তা পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে আগের সরকারগুলি যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (Border Security Force বা BSF) জমি দেওয়ার বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
বাংলাদেশে নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের ভারতে আশ্রয় দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে সিএএ-র প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে নাগরিকত্বের প্রশ্নের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়।
দুর্গাপুজোর অনুমতি নিয়ে কী দাবি?
পুজো আয়োজনের অনুমতি নিয়েও পূর্বতন সরকারকে নিশানা করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ২০২৫ সালে ১২ হাজার পুজো কমিটি অনুমতি পায়নি। এ বছর সেই কমিটিগুলি অনুমতি পেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও এই পরিসংখ্যানের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
মানুষের প্রত্যাশা পূরণের বার্তা
বিজেপির প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যে পরিবর্তনের কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, মানুষ যে প্রত্যাশা নিয়ে সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা পূরণ করাই প্রশাসনের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, বনগাঁর দুর্গাপুজোর উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে ধর্মীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি সিএএ, সীমান্ত সুরক্ষা ও রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক বার্তা দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা কতটা গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর।


