কলকাতা: লাল রাজনীতির (Alimuddin Street) সদর দপ্তরের দোরগোড়ায় চণ্ডীপাঠের আসর! পুজোর মরশুমে কলকাতার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে মঙ্গলবারের ছবিটা ছিল বেশ অন্যরকম। সিপিএমের সদর দপ্তর মুজাফ্ফর আহমেদ ভবনের অদূরে মাইক্রোফোনে ভেসে এল চণ্ডীপাঠের মন্ত্র। আর সেই আয়োজন ঘিরেই শুরু রাজনৈতিক চর্চা। তবে গোটা বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ সিপিএমের প্রবীণ নেতা সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty)। তাঁর মন্তব্য, ‘আমাদের অনেক কর্মী আছেন, যাঁরা ওঁদের সঠিকভাবে চণ্ডীপাঠ করাটা শিখিয়ে দিতে পারবেন।’ ব্যস, এই মন্তব্য ঘিরেই জমে উঠেছে আলোচনা!
লাল দুর্গের সামনে চণ্ডীপাঠ, বার্তা কাদের?
মঙ্গলবার সকালে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে (Alimuddin Street) চণ্ডীপাঠের আয়োজন করা হয়। সত্যজিৎ দাস নামে এক ব্যক্তিকে অতিথি করে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। বেশ কয়েকজন মহিলা সেখানে চণ্ডীপাঠ করেন। মাইক্রোফোনে সেই মন্ত্রোচ্চারণ ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়।
এই আয়োজনের নেপথ্যে কারা রয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে সনাতনপন্থীরাই এই কর্মসূচির আয়োজন করেছেন বলে ধারণা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সিপিএমের সদর দপ্তরের (Alimuddin Street) সামনে এই ধর্মীয় কর্মসূচি প্রতীকী বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।
চণ্ডীপাঠে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তির দাবি, বামপন্থীরা সনাতন ধর্মকে অপমান করেন বলেই তাঁদের পার্টি অফিসের সামনে এই আয়োজন। যদিও এটি ওই ব্যক্তির নিজস্ব বক্তব্য; সিপিএমের অবস্থান সম্পর্কে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ হিসেবে একে দেখা যায় না।
‘চণ্ডীপাঠ শিখিয়ে দিতে পারবেন কমরেডরাই!’ খোঁচা সুজনের?
ঘটনাটি নিয়ে সিপিএমের প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক সুজন চক্রবর্তীর (Sujan Chakraborty) প্রতিক্রিয়া বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে তিনি বলেন, “এসব করে লাভ নেই। আমাদের এমন বহু কর্মী আছেন, যাঁরা ওঁদের ভালো করে চণ্ডীপাঠ শিখিয়ে দিতে পারবেন।”
এখানেই শেষ নয়। চণ্ডীপাঠের শুদ্ধতা নিয়েও কটাক্ষ করেন সুজন। তাঁর বক্তব্য, সেদিনের পাঠ আদৌ সঠিকভাবে হয়েছে কি না, তা সিপিএমের কর্মীরাই বলতে পারবেন। অর্থাৎ, ধর্মীয় কর্মসূচির পালটা ধর্মীয় বিতর্কে না গিয়ে বিষয়টিকে কার্যত হালকাভাবেই নিলেন প্রবীণ বাম নেতা। তাঁর মন্তব্যের পর আলিমুদ্দিনের (Alimuddin Street) এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা আরও বেড়েছে।
ধর্ম বনাম রাজনীতি, নাকি নিছক প্রতীকী কর্মসূচি?
সিপিএমের সদর দপ্তরের কাছে চণ্ডীপাঠের আয়োজন ঘিরে একাধিক ব্যাখ্যা সামনে আসছে। কারও মতে, এটি সনাতনী সংস্কৃতির প্রকাশ; আবার কারও চোখে, বামেদের উদ্দেশে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার প্রচেষ্টা। তবে কর্মসূচির প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে আয়োজকদের তরফে স্পষ্ট বক্তব্য না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন।
একদিকে আলিমুদ্দিনের (Alimuddin Street) সামনে চণ্ডীপাঠ, অন্যদিকে সুজন চক্রবর্তীর ‘শিখিয়ে দেওয়ার’ মন্তব্য, সব মিলিয়ে পুজোর মরশুমে কলকাতার রাজনীতিতে যোগ হল এক অভিনব পর্ব। লাল দুর্গের সামনে মন্ত্রোচ্চারণ, আর তার জবাবে কমরেডদের চণ্ডীপাঠ শেখানোর দাবি! আলিমুদ্দিনের মঙ্গলবারের এই ছবি যে রাজনৈতিক আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে, তা বলাই যায়।


