Aaj India Desk, কলকাতা: পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Municipal Recruitment Scam) স্বস্তি পেলেন না রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী (Former Fire Services Minister) সুজিত বসু (Sujit Bose)। জামিনের আর্জি খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। অন্যদিকে, শ্রীভূমির (Sreebhumi) দুর্গাপুজোর ব্যানার, পোস্টার ও প্রচারেও দেখা গেল না তাঁর ছবি। দ্বিতীয়ার বিকেলে পুজোর উদ্বোধন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা।
দুর্গাপুজোর আগে জামিনের আবেদন জানিয়ে স্বস্তি পেলেন না রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Bose)। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Municipal Recruitment Scam) তাঁর জামিনের আর্জি খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। ফলে আপাতত সংশোধনাগারেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে। অন্যদিকে, দ্বিতীয়ার দিন শ্রীভূমির (Sreebhumi) দুর্গাপুজোর উদ্বোধন ঘিরেও নজরে এসেছে একাধিক পরিবর্তন।
দ্বিতীয়ার বিকেলে শ্রীভূমির (Sreebhumi) দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এবারের পুজোয় শুরু থেকেই ঐক্য এবং এলাকার বাসিন্দাদের গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছে পুজো কমিটি। ব্যানার, পোস্টার থেকে শুরু করে প্রচারমূলক বিজ্ঞাপন—কোথাও দেখা যায়নি সুজিত বসুর ছবি।
একসময় শ্রীভূমির দুর্গাপুজোকে বর্ণাঢ্য আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ করে তোলার ক্ষেত্রে সুজিত বসুর (Sujit Bose) ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হত। কিন্তু এবারের পুজোয় তাঁকে দেখা যায়নি। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই সংশোধনাগারে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী।
গত ১১ মে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate বা ED) পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজিত বসুকে গ্রেফতার করে। প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর কলকাতা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানান তিনি।
১২ অগস্ট আদালতে ইডি (ED) দাবি করে, পুরনিয়োগ দুর্নীতিতে ২৮৪ জন অযোগ্য প্রার্থীর চাকরি হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, প্রত্যেকের কাছ থেকে চাকরির জন্য ছয় লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। সুজিত বসুর অ্যাকাউন্টে ৮.৮ কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি করে ইডি। পাশাপাশি, তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও কোটি কোটি টাকার হদিস মিলেছে বলে আদালতে জানানো হয়। ইডির বক্তব্য, ওই অর্থের উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা বা প্রামাণ্য নথি পাওয়া যায়নি।
এই মামলায় সুজিত বসুর আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন মধ্যস্থতাকারী অয়ন শীল (Ayan Sil)। ইডির দাবি, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ১৫২ জনের চাকরির সুপারিশের বিষয়ে সুজিত বসুর নাম উঠে আসে।
মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের (Justice Tirthankar Ghosh) বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। শুনানির পর সুজিত বসুর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। ফলে পুজোর আগে তাঁর মুক্তির সম্ভাবনা আপাতত অধরাই রইল।


