স্নেহা পাল, পূর্ব বর্ধমান: দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে একের পর এক পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যু যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কখনও কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, কখনও রহস্যজনক পরিস্থিতিতে প্রাণ হারাচ্ছেন ভিনরাজ্যে কর্মরত বাঙালি শ্রমিকেরা। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল বাংলার এক পরিযায়ী মহিলা শ্রমিকের নাম।
কর্মস্থলেই উদ্ধার মৃতদেহ
শুক্রবার রাতে বিজেপি শাসিত গুজরাতে (Gujrat) কর্মরত সোনামণি বৈরাগ্য (৩৮) নামে বাংলার এক পরিযায়ী মহিলা শ্রমিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। আহমেদাবাদের সোলা থানার অন্তর্গত বোধকদেব এলাকার যে রেস্তোরাঁয় তিনি কাজ করতেন সেখানকার একটি ঘর থেকেই সোনামণির মৃতদেহ পাওয়া যায়।
গুজরাতের (Gujrat) সেই রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ ফোনে পরিবারকে আত্মহত্যার কথা জানালেও, তা মানতে নারাজ মৃতার পরিবার। মৃতার মা শেফালি কর্মকার বলেন, “মেয়েটা ভীষণ কষ্টে থেকেও কখনও ভেঙে পড়েনি। আত্মহত্যা করার কথা বিশ্বাসই করা যায় না। ওকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।” পরিবারের আরও অভিযোগ, গুজরাতে পুলিশে অভিযোগ জানাতে গেলে মামলা নথিভুক্ত করা হয়নি।
সংসারের চাপে ভিনরাজ্যে পাড়ি
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোনামণির বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কালনার সিদ্ধেপাড়ায়। প্রায় ২০ বছর আগে তাঁর বিয়ে হয় মিঠুন বৈরাগ্যের সঙ্গে। তাঁদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। স্বামীর আয় অনিয়মিত হওয়ায় সংসার চালাতে দেড় বছর আগে গুজরাতে (Gujrat) কাজ করতে যান সোনামণি।
পরিবারের তরফে শনিবার কালনারই নাদনঘাট থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে নাদনঘাট থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই আহমেদাবাদ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর কিছুদিন আগেই পুনেতে পুরুলিয়ার এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুও রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। পরপর এই ধরনের ঘটনায় ভিনরাজ্যে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।


