34.2 C
Kolkata
Tuesday, October 6, 2026
spot_img

জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবি খারিজ, CEC-র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কী বলে সংবিধান?

Aaj India Desk,নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner) জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) আপাতত দায়িত্ব থেকে সরানোর কোনও নির্দেশ দিল না সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে ওঠা অভিযোগের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে করা আবেদনে নোটিস জারি করেছে শীর্ষ আদালত। তবে শুনানি চলাকালীন তাঁকে সাসপেন্ড করার যে দাবি উঠেছিল, তা এই মুহূর্তে মানেনি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Surya Kant), বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী (Joymalya Bagchi) এবং বিচারপতি ভি মোহনার (V. Mohana)-র বেঞ্চ।

ঠিক কী নিয়ে বিতর্ক?

মামলাকারীদের বক্তব্য, তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু (Sukhbir Singh Sandhu) এবং বিবেক যোশীর (Vivek Joshi) মতামত বা সম্মতি উপেক্ষা করা হয়েছিল।

আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী (Menaka Guruswamy) আদালতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া, অর্থাৎ স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR), এবং ফর্ম ৬-এর পরিবর্তনের বিষয়ও শুনানিতে উঠে আসে।

অন্য একটি আবেদনে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিং (Vikas Singh) সরাসরি জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড করার আবেদন করেন। তাঁর যুক্তি, নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় একই ব্যক্তির হাতে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকা উচিত নয়।

CEC-কে সরানো এত কঠিন কেন?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদটি সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত। সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তাঁকে সাধারণ সরকারি কর্মীর মতো প্রশাসনিক নির্দেশে সরিয়ে দেওয়া যায় না। অপসারণের জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির মতোই কঠোর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

অর্থাৎ সংসদের দুই কক্ষেই নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় প্রস্তাব পাস হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তাই কোনও অভিযোগ উঠলেই সরকার বা আদালত সরাসরি CEC-কে পদ থেকে সরিয়ে দিতে পারে না।

তবে এর অর্থ এই নয় যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কোনও সিদ্ধান্ত বিচারবহির্ভূত। তাঁর কাজকর্ম এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায়। বর্তমান মামলাতেও সেই পথেই অভিযোগগুলির সত্যতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি বৈধতা খতিয়ে দেখছে সুপ্রিম কোর্ট।

ফলে আপাতত জ্ঞানেশ কুমার তাঁর পদেই বহাল থাকছেন। পরবর্তী শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের জবাব এবং সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে আদালত আরও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিতে পারে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন