কলকাতা: উপনির্বাচন মানেই শাসকদলের বাড়তি সুবিধা! বাংলার রাজনীতিতে সেই পুরনো ট্রেন্ডই কি এবারও দেখা যাবে? নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের ভোটের (Nandigram-Rejinagar Bypoll) অঙ্ক কিন্তু একেবারেই এক নয়। একদিকে শুভেন্দু অধিকারীর গড় নন্দীগ্রামে বিজেপির শক্ত অবস্থান, অন্যদিকে রেজিনগরে হুমায়ুন কবীরের ব্যক্তিগত ভোটভিত্তি এবং সংখ্যালঘু ভোটের অঙ্ক। ফলে ফল ঘোষণার আগে দুটি কেন্দ্রেই তৈরি হয়েছে আলাদা রাজনৈতিক কৌতূহল।
নন্দীগ্রামে (Nandigram-Rejinagar Bypoll) বিজেপির অবস্থান যে শক্তিশালী, তা নিয়ে খুব বেশি সংশয় নেই। শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে মূল প্রশ্ন বিজেপিকে হারানো নয়, বরং দ্বিতীয় স্থানে কে থাকবে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নন্দীগ্রামে পেয়েছিল মাত্র ০.৩২ শতাংশ ভোট, অর্থাৎ ৭৯৪টি ভোট। কিন্তু কয়েক মাসেই বদলেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তৃণমূলের ভাঙন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাবের একটি অংশ কংগ্রেসের দিকে গেলে ভোটের অঙ্কও বদলাতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্রের মতে, বিজেপির পরে দ্বিতীয় স্থানে থাকার সম্ভাবনা কংগ্রেসেরই বেশি।রেজিনগরের (Nandigram-Rejinagar Bypoll) ছবি আবার সম্পূর্ণ আলাদা। ২০২৬ সালে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর প্রায় ৫২ শতাংশ ভোট নিয়ে জয়ী হয়েছিলেন। বিজেপি পেয়েছিল প্রায় ২৭ শতাংশ এবং তৃণমূল ১৭.৪৩ শতাংশ।
তাই এবার মূল প্রশ্ন, হুমায়ুনের ব্যক্তিগত ভোটভিত্তি কতটা অটুট রয়েছে এবং বিজেপি কতটা সেই ভোটে ভাগ বসাতে পারে। নন্দীগ্রামে দ্বিতীয় স্থান, রেজিনগরে জয়। দুই কেন্দ্রের ফলই তাই রাজ্যের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।


