Aaj India Desk, কলকাতা: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস (Saurav Das) সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছেন, যেকোনও সময় তাঁদের গ্রেফতার করা হতে পারে। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র তাঁদের পাশাপাশি CJP-র আরও দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা (Asutosh Ranka) এবং অভিজিৎ দিপকে (Abhijit Dipke)-কে গ্রেফতারের পরিকল্পনা করছে।
সৌরভের বক্তব্য, গ্রেফতার করে আন্দোলন থামানোর চেষ্টা হলে তা কোনও ভাবেই সফল হবে না। এক্স হ্যান্ডেলে দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রকে উদ্দেশ্য করে তিনি সতর্কবার্তা দেন, বড় কোনও পদক্ষেপ করা হলে তার ফল ভাল নাও হতে পারে। তাঁর দাবি, তাঁরা গ্রেফতারির মতো পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। জেলে যেতে হলেও আন্দোলন থেকে পিছিয়ে আসবেন না তাঁরা।
‘জেলে গেলেও লড়াই চলবে’
সৌরভের কথায়, কয়েকজন নেতাকে আটক করলেই প্রতিবাদ থামিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। বরং তাঁদের অনুপস্থিতিতেও সাধারণ মানুষ এবং তরুণদের নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যতের জন্য পথে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন CJP নেতা।
১০ অক্টোবর দেশজুড়ে বড় কর্মসূচি
আন্দোলনকে আরও ছড়িয়ে দিতে আগামী ১০ অক্টোবর দেশজুড়ে বড় জমায়েতের ডাক দিয়েছেন সৌরভ। তাঁর আবেদন, শুধুমাত্র কয়েকজন নেতার উপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকেও এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে হবে।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রবিবারও দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে বিক্ষোভ হয়। CJP নেতাদের কর্মসূচিতে বাম নেত্রী বৃন্দা কারাত (Brinda Karat) এবং ঐশী ঘোষের (Aishe Ghosh) মতো নেতাদের উপস্থিতিও দেখা যায়।
এদিকে, যন্তর মন্তরের সামনে তিন মহিলা সাংবাদিককে হেনস্থার অভিযোগ নিয়েও বিতর্ক চলছে। দিল্লি পুলিশের দাবি, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের স্বচ্ছতার জন্য বিষয়টি ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে মুম্বইয়েও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে পথে নামেন উদ্ধব ঠাকরে (Uddhav Thackeray) ও রাজ ঠাকরে (Raj Thackeray)। জাতীয় পতাকা হাতে সংবিধান রক্ষার দাবিতে কর্মসূচি করেন তাঁরা।
SIR প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই মূলত নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়। যদিও পরে কমিশনের তরফে জানানো হয়, তিন কমিশনারের মতামত নিয়েই সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এখন নজর ১০ অক্টোবরের কর্মসূচি এবং তার আগে CJP নেতাদের গ্রেফতারির দাবি বাস্তবে কোনও পদক্ষেপে গড়ায় কি না, সেদিকে।


