Aaj India Desk, কলকাতা: পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি (Salboni) থানা এলাকায় আইনজীবী শামীম আহমেদের (Shamim Ahmed) উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের (West Bengal Bar Council) নবনির্বাচিত সদস্য শামীমের উপর হামলার ঘটনায় সরব হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে ভয় দেখিয়ে আইনজীবীদের কাজ থামানোর পাশাপাশি ‘জঙ্গলরাজ’-এর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে।
হামলার ঘটনা নিয়ে কী অভিযোগ মমতার?
সমাজমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, শামীম আহমেদকে গুরুতরভাবে মারধর করার পর তাঁর দেওয়া মূল অভিযোগ পরিবর্তন করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতির জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয় বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ওই হস্তক্ষেপের পরেই নিরাপদে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হন আক্রান্ত আইনজীবী।
শুধু শালবনির ঘটনাই নয়, ব্যাঙ্কশাল কোর্ট (Bankshall Court) এবং বারুইপুর আদালতে (Baruipur Court) আইনজীবীদের উপর হামলার অভিযোগও সামনে আনেন মমতা। তাঁর মতে, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, প্রত্যেক আইনজীবীর নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অধিকার রয়েছে। অভিযুক্ত বিজেপি (BJP) কর্মীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
‘ভয় দেখিয়ে লড়াই বন্ধ করা যাবে না’, বললেন শামীম
অন্যদিকে, হামলার পরও নিজের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনও ইঙ্গিত দেননি শামীম আহমেদ। তাঁর বক্তব্য, গোটা বিষয়টি শুধুমাত্র একজন আইনজীবীর উপর হামলার ঘটনা হিসেবে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে সংবিধান রক্ষা এবং সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর লড়াই জড়িয়ে রয়েছে।
শামীমের দাবি, দেশে এখন এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে এক পক্ষ সংবিধানকে রক্ষা করার পক্ষে এবং অন্য পক্ষ সেটিকে দুর্বল করার পথে হাঁটছে। সংবিধান রক্ষার পক্ষে থাকা মানুষদের সঙ্গে নিয়েই তাঁদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ঘরছাড়া মানুষকে আইনি সাহায্য দিতে গিয়েই হামলা?
শামীম জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কারণে ঘরছাড়া হয়ে থাকা সাধারণ মানুষকে আইনি সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি শালবনিতে গিয়েছিলেন। তাঁদের নিজেদের বাড়িতে ফেরানো এবং আইনি অধিকার নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সেই কাজেই বাধা দিতে হামলা চালানো হয়েছে।
আক্রান্ত আইনজীবীর বক্তব্য, কোনও আইনজীবীকে ভয় দেখানোর অর্থ শুধু তাঁর উপর চাপ তৈরি করা নয়, একই সঙ্গে বিচারপ্রার্থীদের অধিকারকেও সংকুচিত করা। তাই হামলা বা ভয়ভীতি দেখিয়ে এই উদ্যোগ থামানো সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষকে পাশে নিয়ে আদালত থেকে রাজপথ—সব জায়গাতেই সংবিধান রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন শামীম।


