স্নেহা পাল, কলকাতা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্বে যখন তথ্য পৌঁছনোর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ছিল বেতার, তখনই শুরু হয়েছিল এক নতুন যোগাযোগের যুগ। ট্রানজিস্টরের শব্দে ভর করে খবর পৌঁছাত ঘরে ঘরে। তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যেও আজও প্রাসঙ্গিক রেডিও (Radio)। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের দাপটে বহু পুরোনো মাধ্যম অস্তিত্বের সংকটে পড়লেও, বেতার তার বিশ্বাসযোগ্যতা ও সহজলভ্যতার কারণে এখনও গুরুত্বপূর্ণ। সেই ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় আজ, ১৩ ফেব্রুয়ারি, সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বেতার দিবস (World Radio Day)।
১৯৪৬ সালের এই দিনেই প্রথম সম্প্রচার শুরু করে United Nations Radio। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে ২০১১ সালে UNESCO ১৩ ফেব্রুয়ারিকে বিশ্ব বেতার দিবস (World Radio Day) হিসেবে ঘোষণা করে।
এই বছর বিশ্ব বেতার দিবসের থিম “Radio এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা”। এ বছরের মূল বার্তা, “AI is a tool, not a voice”।
ইউনেস্কোর মতে, এবছরের থিমে তিনটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, সাংবাদিকতায় AI ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিকতা বজায় রাখা, যেখানে সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত ও তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব মানুষের হাতেই থাকবে। দ্বিতীয়ত, উদ্ভাবনের মাধ্যমে অডিওর মান উন্নত করা, ভাষান্তর সহজ করা এবং বিশেষভাবে সক্ষম শ্রোতাদের জন্য সম্প্রচার আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা। তৃতীয়ত, দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে শ্রোতাদের আস্থা আরও জোরদার করা।
ভারতের মতো জনবহুল দেশে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম ও দুর্গম এলাকায় আজও রেডিও একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিদ্যুৎ বা মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যাহত হলে, রেডিওই অনেক ক্ষেত্রে তথ্য পাওয়ার একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে। প্রযুক্তির অগ্রগতির মধ্যেও তাই মানুষের কণ্ঠে ভর করেই রেডিও তার পথচলা বজায় রেখেছে।


