ঢাকা: দীর্ঘ রাজনৈতিক উথ্থান-পতনের পর বাংলাদেশের বাগডোর বর্তমানে খালেদা-পুত্র তারেক রহমানের হাতে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পদ্মাপাড়ে হিন্দুদের উপর নৃশংসতা দেখেছে সমগ্র বিশ্ব। তাই বাংলাদেশের মসনদে তারেক রহমান বসার পর স্বাভাবিকভাবেই এবছর সেখানে দুর্গাপুজো (Bangladesh Durga Puja) নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। অনেকেরই প্রশ্ন, তারেকের জমানায় কেমন হবে পদ্মাপাড়ের উমাবরণ? দুর্গাপুজোর সংখ্যা বাড়ল না কমল? এই প্রশ্নের উত্তর মিলছে সংখ্যাতেই। আর সেই সংখ্যাই বলছে, বাংলাদেশে এবার দুর্গাপুজোর মণ্ডপ কমেনি, বরং বেড়েছে।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপুজো হবে (Bangladesh Durga Puja)। গত বছরের তুলনায় মণ্ডপ বেড়েছে প্রায় দেড় হাজার। অর্থাৎ পদ্মাপাড়ে এবার আরও বেশি জায়গায় শোনা যাবে ঢাকের বাদ্যি, আরও বেশি মণ্ডপে উঠবে দেবী দুর্গার প্রতিমা।
শুধু মণ্ডপের সংখ্যাতেই নয়, সরকারি অনুদানেও এসেছে বৃদ্ধি। দুর্গাপুজোর জন্য বরাদ্দ ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ বিবেচনায় এই বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য ডেইলি স্টার।
ছুটির হিসেবেও এবার বাড়তি সুবিধা। দুর্গাপুজোর (Bangladesh Durga Puja) সরকারি ছুটি তিন দিন করা হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি কর্মীদের জন্য তৈরি হচ্ছে টানা পাঁচ দিনের ছুটি।
তবে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি নিরাপত্তাতেও বিশেষ জোর দিচ্ছে প্রশাসন। মণ্ডপগুলিতে স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্য সংগ্রহ, ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল এবং দ্রুত খবর পৌঁছে দেওয়ার জন্য মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার পাশাপাশি জেনারেটর ও রিচার্জেবল আলো প্রস্তুত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ সংখ্যার হিসাবে এবারের ছবিটা স্পষ্ট, তারেক রহমানের আমলে প্রথম দুর্গাপুজোয় (Bangladesh Durga Puja) পদ্মাপাড়ে মণ্ডপ কমেনি, বরং বেড়েছে। এখন নজর, এই বাড়তি আয়োজন কতটা উৎসবের আবহ তৈরি করে এবং পুজোর দিনগুলিতে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা বাস্তবে কেমন থাকে।


