ঢাকা: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা আর মাত্র কিছু সময়ের অপেক্ষা। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ ন্যাশানালিস্ট পার্টি (BNP)। তবে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণ। ২০০১ সালে এই বিএনপি-র সাথেই জোট করে সরকার গড়েছিল জামাত। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে ‘কট্টরপন্থী’ হিসেবে কুখ্যাত জামাত-ই-ইসলামি।
নিজেদের ভাবমূর্তি যতই পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন না কেন শফিকুর রহমান, বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের সাধারণ সংখ্যালঘুদের আস্থাভাজন হতে পারেনি দলটি। নির্বাচনের ফলাফল তারই আরও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই আবহে কি বললেন ধর্মনিরপেক্ষ-মানবতাবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasreen)? সমাজমাধ্যমের পোস্টে তিনি বলেন, এই নির্বাচনে তিনি বিএনপির জয়ে খুশি নন, বরং ইসলামপন্থী–জিহাদি–সন্ত্রাসবাদী শক্তির পরাজয়ে স্বস্তি পেয়েছেন।
X Link: https://x.com/taslimanasreen/status/2022249979671392537
গত দেড় বছরে তাদের প্রভাব, সংখ্যালঘু ও নারীদের ওপর হামলা, নারী প্রার্থীদের বাধা এবং নারী-বিদ্বেষী অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। জামাতের ক্ষমতায় আসতে না পারাকে তিনি “এই মুহূর্তের ভালো খবর” বলে উল্লেখ করেন। শুধু তাই নয়, সেইসঙ্গে বিএনপির প্রতি বিস্তারিত ১৫ দফা প্রস্তাব দেন তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasreen)।
যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:
- ১ জুলাইয়ের সনদ বাতিল, সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রধর্ম বাতিল।
- ধর্মভিত্তিক পারিবারিক আইন বাতিল করে সমঅধিকারভিত্তিক ইউনিফর্ম সিভিল কোড প্রণয়ন।
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
- মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করে বিজ্ঞানভিত্তিক ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা জোরদার করা।
- সবার জন্য সর্বজনীন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
- গণতন্ত্রের স্বার্থে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নির্বাসিত নেতাদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেওয়া।
এছাড়াও ধনী-গরীব বৈষম্য দূর ব্লগার ও মুক্তচিন্তকদের নিরাপদে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করানো, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণ এবং ধানমন্ডি ৩২-এর বাড়ি পুনর্গঠনের পাশাপাশি কোনো প্রতিষ্ঠানেই হিজাব/বোরকা বাধ্যতামূলক না করার কথা উল্লেখ করেন তসলিমা (Taslima Nasreen)। ভারতের সঙ্গে বৈরী সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ অন্যায়ভাবে বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার কোথাও বলেন তিনি।


