Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের সংঘাত এবার নতুন মোড় নিল। দলত্যাগ বিরোধী আইনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee), অরূপ রায় (Arup Roy), সন্দীপন সাহা (Sandipan Saha)-সহ ১০ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি নিয়ে সময়সীমা বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিধায়ক পদ থাকবে কি না, সেই বিষয়ে সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বিধানসভার স্পিকারের কাছেই রয়েছে। আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে স্পিকারকে।
কোথা থেকে শুরু বিতর্ক?
বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অন্দরে তৈরি হয় রাজনৈতিক টানাপোড়েন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কয়েকজন বিধায়ক দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন। পরে তাঁরা পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে মূল তৃণমূলের দলীয় প্রতীক এবং আর্থিক সম্পদের উপর দাবিও জানান বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে তাঁদের একজোট হওয়ার ঘটনায়।
এরপর গত ৮ জুলাই বিধানসভার স্পিকারের কাছে আবেদন করেন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhyay)। তাঁর দাবি ছিল, দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় এনে ওই ১০ বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের বিষয়ে পদক্ষেপ করা হোক।
কেন শীর্ষ আদালতে মামলা?
আবেদন জমা পড়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিধায়ক পদ খারিজ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি। এই পরিস্থিতিতেই স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে যান শোভনদেব।
সোমবার মামলাটির শুনানিতে তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) এবং কপিল সিবাল (Kapil Sibal)। শুনানি শেষে আদালত জানায়, বিধায়কদের অযোগ্য ঘোষণা করার বিষয়টি সরাসরি আদালতের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে না। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক দায়িত্ব স্পিকারের।
এখন নজর ৮ অক্টোবর
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এখন গোটা নজর বিধানসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তের দিকে। ৮ জুলাই আবেদন জমা পড়ায় তিন মাসের নির্ধারিত সময়সীমা ৮ অক্টোবর শেষ হচ্ছে। তার মধ্যেই ১০ বিধায়কের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে স্পিকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এরই মধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়েও রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে ৮ অক্টোবরের সিদ্ধান্ত শুধু ওই ১০ বিধায়কের সদস্যপদ নয়, রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


