26.6 C
Kolkata
Tuesday, September 22, 2026
spot_img

‘বন্দে মাতরম’ গাইতেই হবে? জাতীয় সংগীত মামলায় কী রায় সুপ্রিম কোর্টের?

Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram)-এর ছয়টি স্তবক সরকারি অনুষ্ঠানে গাওয়া বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে ( Supreme Court) যে মামলা হয়েছে, তার শুনানি শুরু হয়েছে। এই মামলা করেছেন কর্নাটকী সঙ্গীতশিল্পী টি এম কৃষ্ণা। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Justice Surya Kanta), বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি পি মোহনরাজের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়।

শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, কোন গানকে জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া আদালতের কাজ নয়। তবে ধর্মীয় বিশ্বাস বা ব্যক্তিগত বিবেকের কারণে কেউ জাতীয় গান গাইতে না চাইলে তাঁর সেই স্বাধীনতা সংবিধান সুরক্ষিত করে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

এক্ষেত্রে ১৯৮৬ সালের ‘বিজয়ে ইমানুয়েল’ মামলার রায়ের কথাও উঠে আসে। সেই মামলায় বিবেকের কারণে জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার অধিকারকে গুরুত্ব দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। বর্তমান মামলাতেও একই ধরনের সাংবিধানিক সুরক্ষা থাকবে কি না, সেটাই এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

আবেদনকারীর অভিযোগ, ২০২৬ সালের সংশোধনী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকার মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবক গাওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু জাতীয় গান বলতে ঠিক কোন অংশকে বোঝানো হচ্ছে, সংশোধনীতে তা স্পষ্ট নয় বলেই দাবি করা হয়েছে।

আবেদনকারীর আইনজীবী ড. এস মুরলীধরের যুক্তি, গানটির শেষের কয়েকটি স্তবকে দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মতো হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ রয়েছে। তাই সব নাগরিককে ওই অংশ গাইতে বাধ্য করা হলে তা ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে তাঁর বক্তব্য।

অন্যদিকে, কেন্দ্রের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই আবেদনের বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যাখ্যাকে এতটা সীমিতভাবে দেখা ঠিক নয়। শুনানিতে আইন তৈরির পদ্ধতি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক হয়।

এক পর্যায়ে আইন প্রণয়নের পদ্ধতি নিয়ে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সলিসিটর জেনারেল ও আবেদনকারীর আইনজীবীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। ‘নকশালপন্থী’ প্রসঙ্গ উঠে আসায় ড. মুরলীধর আপত্তি জানান এবং মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি করেন। তবে সলিসিটর জেনারেল নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসেননি। পরে বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, এই মন্তব্যগুলি তারা নথিভুক্ত করছে না।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, স্বাধীনতার আগে ১৯৩৭ সালে মুসলিম সদস্যদের আপত্তির কথা মাথায় রেখে জাতীয় সমাবেশে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জওহরলাল নেহরু, সুভাষচন্দ্র বসু এবং রাজেন্দ্র প্রসাদের মতো বিশিষ্ট নেতারাও সেই ব্যবস্থাকে সমর্থন করেছিলেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখন সুপ্রিম কোর্টের সামনে মূল প্রশ্ন হল—জাতীয় গান নির্ধারণের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের বিষয় হলেও, ধর্মীয় বিশ্বাস বা বিবেকের কারণে কেউ গানটি গাইতে অস্বীকার করলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে কি না। এই বিষয়ে কেন্দ্রের বক্তব্যও জানতে চেয়েছে আদালত। আগামী শুনানিতে মামলাটি নিয়ে আরও বিস্তারিত আইনি যুক্তি শোনা হতে পারে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন