Aaj India desk, কলকাতা: বিশ্বকর্মা পূজার ভাসানে ব্যস্ত ছিল যাদবপুরের (Jadavpur) ৯৬ নম্বর ওয়ার্ড ।জায়গায় জায়গায় শুরু হয়েছিল প্রস্তুতি। রিক্সা স্ট্যান্ড থেকে দোকান সকলেই আনন্দে মত্ত ছিলেন। সমস্ত পাড়ার এবং পার্টির দাদারা ব্যস্ত ছিলেন সে দিকে। এই অবস্থায় কেউ ভাবতেও পারেননি হঠাৎ গোটা ওয়ার্ড জুড়ে শুরু হবে তাণ্ডব। ঘটনাটা কোনো মফস্বল কিংবা গ্রামের নয়। খাস কলকাতার বিজয়গড় কলোনির। পুরভোটের এখনও দেরি আছে। অভিযোগ তার আগেই বিরোধী শূন্য করার কাজ শুরু করলো বিজেপি! নন্দীগ্রাম মডেল দিয়েই বিধানসভার মতো পুরসভাও দখল করতে চায় তারা।
কি ঘটেছে?
শনিবার তখন প্রায় সন্ধ্যে ৭ টা বাজে। বিশ্বকর্মা পুজোর ভাসানের প্রস্তুতি চলছে যাদবপুর(Jadavpur)এলাকার বিভিন্ন জায়গায়। হঠাৎই প্রায় শত খানেক যুবক এসে উপস্থিত হয়। প্রথমেই তারা হামলা চালায় যাদবপুরের প্রাক্তন বিধায়ক ও মেয়র পরিষদ দেবব্রত মজুমদারের বাড়িতে। বিজয়গড়ে দেবব্রতর অনুপস্থিতিতেই চলে ভাঙচুর। বাড়ির মহিলারা হাতজোড় করলেও রেয়াত করা হয়নি। এরপরে ভাঙচুর চলে ওয়ার্ডের তৃণমূল পার্টি অফিসগুলিতে। আক্রমন চলে বাম শিবিরের উপরেও। বিভিন্ন জায়গায় সিপিআইএম শহীদ বেদী ভাঙ্গা হয়। সিপিআইএম পার্টি অফিসে ভাঙচুর চলে। এলাকায় তখন তৃণমূল কর্মীরা প্রাণভয়ে লুকিয়ে থাকলেও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে বামেরা। শেষ পর্যন্ত পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।
কেন এই হামলা ?
তৃণমূল ও সিপিএমের দাবি সামনেই আসছে পুরভোট। সেখানে যাদবপুরের (Jadavpur) ৯৬ নম্বর ওয়ার্ডকে মহিলা সংরক্ষিত করা হয়েছে। তারপরেই এই হামলা। তৃণমূলের এক কর্মীর কথায়, “বাইরের লোক এনে ক্ষমতা দেখানোর লড়াই চলছে। হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজন ওয়ার্ডের বিজেপি কর্মী। বাকিরা সবাই বাইরের।” স্থানীয় এক সিপিআইএম কর্মী বলেন,” রাতের অন্ধকারে মত্ত কিছু লোক এনে বিজেপি আমাদের অফিস ভেঙেছে, পতাকা ছিঁড়েছে, বয়স্ক কমরেডদের গায়ে হাত তুলেছে। এরা কাপুরুষ। সিপিআইএম এর মোকাবিলা করতে জানে।” ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল বাঘাযতীন মোড়ে রাতে অবস্থান বিক্ষোভ করে। সিপিআইএমের তরফে আজ প্রতিবাদ মিছিল করা হবে।


