স্নেহা পাল, নয়াদিল্লি: দিল্লির লালকেল্লা ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। সেই প্রতীকের উপর ৯ নভেম্বর হয় সন্ত্রাসী হামলা। সময় গড়ালেও সেই ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সম্প্রতি সেই প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট হয় জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ নথিতে। সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত নজরদারি রিপোর্টে উঠে আসে এমন এক সংগঠনের নাম যাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
লালকেল্লা হামলায় সন্ত্রাসী সংগঠন
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) এর সঙ্গে দিল্লির লালকেল্লায় সন্ত্রাসী হামলার যোগের কথা উল্লেখ করা হয়।
একাধিক হামলার দায় স্বীকার
জাতিসংঘ তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, এক সদস্য রাষ্ট্রের মতে জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) ভারতে একাধিক হামলার দায় স্বীকার করে। পাশাপাশি ৯ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লায় হওয়া হামলার সঙ্গেও সংগঠনটির যোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ওই হামলায় ১৫ জনের মৃত্যুও হয়।
জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) প্রধান মাওলানা মাসুদ আজহার ‘জামাত-উল-মুমিনাত’ নামে একটি মহিলা শাখা গঠনের ঘোষণা করে। সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সহায়তা করাই এই শাখার লক্ষ্য। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকদের মতে, জইশ এইভাবে নিজেদের সংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনগুলি নজরদারি এড়িয়ে নতুন নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চায়।
জইশ নিয়ে আপত্তি পাকিস্তানের
এই রিপোর্টে পাকিস্তানের অবস্থানও আলাদা করে উল্লেখ করা হয়। পাকিস্তান একমাত্র দেশ যে রিপোর্টে জইশের নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে। পাকিস্তান এও দাবি করে যে সংগঠনটি আর সক্রিয় নয়। তবে অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলির সমর্থনে জইশের নাম রিপোর্টে বহাল রাখা হয়।
বদলাচ্ছে জঙ্গিদের কৌশল
জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল জানিয়েছে, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় সন্ত্রাসী সংগঠনগুলি টিকে থাকতে নতুন নতুন কৌশল গ্রহণ করছে ও সংগঠনের ধরন বদলাচ্ছে। এই সংগঠনগুলির এখনো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হামলা চালানোর ক্ষমতা রয়েছে যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য চিন্তার বিষয়।


