Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্যের কয়েকটি জেলায় ইসকন (Iskon) তথা ‘অন্নমৃতা ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে মিড-ডে মিল (Mid-Day-Meal) দেওয়ার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, আপাতত তা স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, এখনই নতুন ব্যবস্থায় না গিয়ে আগের মতোই স্কুলগুলিতে রান্না করে পড়ুয়াদের খাবার দেওয়া হবে।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানিয়েছিলেন, কলকাতার পর ধাপে ধাপে রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও স্কুলের খাবার সরবরাহের দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়া হবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী উত্তর ২৪ পরগনার বিধাননগর, দমদম, রাজারহাট-নিউ টাউন, হাওড়া, পুরুলিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম-১ ও নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে অন্নমৃতা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু সোমবার আচমকাই সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর না করার কথা জানানো হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এরপর নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে একটি প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করে ইসকন। বিবৃতিতে ইসকন জানিয়েছে, তাদের পরিচালিত অন্নমৃতা ফাউন্ডেশন কলকাতায় ইতিমধ্যেই মিড-ডে মিল পরিষেবা দিচ্ছে। গত ১ অগস্ট কলকাতায় সংস্থাটির প্রথম কেন্দ্রীয় রান্নাঘর চালু হয়। সেখান থেকেই কলকাতা পুরসভা এলাকার সরকারি স্কুলগুলিতে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
সংস্থার দাবি, খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টিগুণ এবং স্বাদ নিয়ে পড়ুয়া, শিক্ষক ও অভিভাবকদের কাছ থেকে ভালো প্রতিক্রিয়া মিলেছে। কলকাতায় কাজের সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই আগামী দিনে রাজ্যের অন্য জেলাগুলিতেও পরিষেবা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে অন্নমৃতা ফাউন্ডেশন। রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই ভবিষ্যতে এই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছে তারা।
বিবৃতিতে নিজেদের কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছে অন্নমৃতা ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০০৪ সাল থেকে ভারতে সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য খাবার সরবরাহের কাজ করছে তারা। বর্তমানে মহারাষ্ট্র, দিল্লি, হরিয়ানাসহ একাধিক রাজ্যে প্রতিদিন ১২ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়ার কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়।
শুধু অন্নমৃতা নয়, ভারতে ইসকনের ৪৫০টিরও বেশি শাখা রয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে প্রায় ৩৫টি শাখা এবং প্রায় ৮ হাজার কনগ্রিগেশন সেন্টার। বিশ্বজুড়ে ১,৫০০-র বেশি কেন্দ্রের মাধ্যমে ইসকনের ফুড রিলিফ প্রোগ্রাম পরিচালিত হয় এবং প্রতিদিন প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের কাছে খাবার পৌঁছনোর দাবি করা হয়েছে।
পাশাপাশি ‘ISKCON Bangalore Society’-কে ঘিরে চলা দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধ নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে অন্নমৃতা ফাউন্ডেশন। তাদের বক্তব্য, বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক ওই সংগঠন ও তার ট্রাস্টিদের প্রশাসনিক কাঠামো মূল আন্তর্জাতিক ইসকন ব্যবস্থার থেকে আলাদা। তাই বেঙ্গালুরুর ওই সংগঠনকে আন্তর্জাতিক ইসকনের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয় বলেই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।


