Aaj India Desk, কলকাতা: স্কুলে বদলির নিয়ম থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আধিকারিক ও কর্মীদের (University Teacher and Employees) ক্ষেত্রে এতদিন এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলির (Teacher Transfer) স্পষ্ট আইনি ব্যবস্থা ছিল না। এবার সেই ব্যবস্থাই চালু করতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার (State Government)। ২০১৭ সালের সংশ্লিষ্ট আইনে নতুন ধারা যোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের বদলির আইনি পথ তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজ্যের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আধিকারিক ও কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’-এ ২০১৭ সালের আইনে নতুন ১৪এ ধারা যোগ করার প্রস্তাব রয়েছে। এই নিয়ম কার্যকর হলে প্রশাসনিক প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করা যেতে পারে। তবে এর জন্য রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে চ্যান্সেলরকে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে ধরা হবে।
বদলি হলে কর্মীর চাকরির বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই বিষয়টিও সংশোধনীতে রাখা হয়েছে। কর্মীর সামনে দুটি বিকল্প থাকবে। তিনি চাইলে নিজের পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়ে লিয়েন বজায় রাখতে পারবেন। আবার চাইলে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁকে বদলি করা হয়েছে, সেখানেই স্থায়ীভাবে যুক্ত হতে পারবেন।
জনস্বার্থে বদলি হওয়ার পর কোনও কর্মী যদি পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়ে লিয়েন না রাখেন, তাহলে তাঁর সিনিয়রিটি নির্ধারণ করা হবে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার বা পদে প্রথম নিয়োগের তারিখের ভিত্তিতে। বদলির কারণে কর্মীর আর্থিক সুবিধার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তিনি ট্রান্সফার গ্র্যান্ট এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার খরচ পাওয়ার অধিকারী হবেন।
এর আগে ২০১৭ সালের আইনে কলেজের শিক্ষক, গ্রন্থাগারিক, আধিকারিক এবং অশিক্ষক কর্মীদের এক কলেজ থেকে অন্য কলেজে বদলির ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এমন নির্দিষ্ট নিয়ম ছিল না। সেই আইনি ঘাটতি পূরণ করতেই এবার নতুন ধারা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভিডেন্ট ফান্ডেও বদল
একই সঙ্গে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালনার নিয়মেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষক, আধিকারিক এবং কর্মীদের জন্য থাকা প্রভিডেন্ট ফান্ড ১৯৮৩ সালের সংশ্লিষ্ট আইনের নিয়ম মেনে পরিচালিত হবে।
এই আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অর্ডিন্যান্স তৈরি করতে পারবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভ কাউন্সিল। গৌড়বঙ্গ, সিধো-কানহো-বিরসা, রবীন্দ্রভারতী, প্রেসিডেন্সি, কাজী নজরুল, রায়গঞ্জ, আলিপুরদুয়ার, কন্যাশ্রী, হরিচাঁদ গুরুচাঁদ-সহ মোট ২১টি বিশ্ববিদ্যালয় এই পরিবর্তনের আওতায় আসছে।
রাজ্য সরকারের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের বদলি এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড—দুই ক্ষেত্রেই নিয়মকে আরও স্পষ্ট ও একরকম করাই এই সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য। তবে প্রভিডেন্ট ফান্ডের নিয়ম বদলের ফলে অতিরিক্ত আর্থিক দায় তৈরি হতে পারে। সেই খরচের জন্য অর্থ দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় বাজেটের ব্যবস্থা করা হবে।
দুটি সংশোধনী বিলই ইতিমধ্যে গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ঠিক কবে থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে, তা পরবর্তী সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।


