পৌলমী ব্যানার্জী,নয়াদিল্লি: নতুন শ্রম আইন বাতিল এবং একাধিক অর্থনৈতিক দাবির সমর্থনে আগামিকাল, ১২ই ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দেশজুড়ে ‘ভারত বনধ’-এর ডাক দিয়েছে কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি। ১০টি শ্রমিক সংগঠনের এই যৌথ মঞ্চের দাবি, এই ধর্মঘটে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্র মিলিয়ে প্রায় ৩০ কোটি শ্রমিক সামিল হতে পারেন। ফলে সপ্তাহের কাজের দিনে ব্যাঙ্ক থেকে পরিবহন— সমস্ত পরিষেবাতেই বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ধর্মঘটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে সড়ক পরিবহনের ওপর। কেরালা, কর্নাটক এবং ওড়িশার মতো রাজ্যগুলিতে বাস ও ট্যাক্সি পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। রেল চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা হলেও বিভিন্ন স্টেশনে ‘রেল রোকো’ বা অবরোধের ডাক দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তবে দিল্লি বা কলকাতার মতো মেট্রো শহরগুলিতে মেট্রো পরিষেবা চালু থাকার কথা।
ব্যাঙ্ক কর্মীদের সর্বভারতীয় সংগঠনগুলি (যেমন AIBEA) এই বনধকে সমর্থন জানিয়েছে। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিতে চেক ক্লিয়ারেন্স বা কাউন্টারে লেনদেনের কাজ ব্যাহত হতে পারে। তবে নেট ব্যাঙ্কিং এবং মোবাইল ব্যাঙ্কিং পরিষেবা স্বাভাবিক থাকবে। টাকা তোলার ক্ষেত্রে এটিএম-এর ওপর ভরসা করা যেতে পারে, যদিও অনেক জায়গায় নগদ সংকটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
স্কুল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ব্যাপারে কোনো কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা জারি হয়নি। তবে কেরালা বা ওড়িশার মতো বনধ-প্রবণ রাজ্যগুলিতে অনেক স্কুল আগাম ছুটি ঘোষণা করেছে। যাতায়াতের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে অভিভাবকরা নিজ নিজ স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
সাধারণ মানুষের স্বস্তির খবর এই যে, সমস্ত জরুরি পরিষেবাকে এই বনধের আওতা থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্স: জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা স্বাভাবিক থাকবে, ওষুধের দোকান বা ফার্মেসি খোলা থাকবে,দুধ ও জল সরবরাহ:নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলি সচল থাকবে, বিমানবন্দর ও বিমান চলাচল আপাতত স্বাভাবিক থাকার কথা।
শ্রমিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, নতুন শ্রম কোড বা শ্রম আইন শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী। এর পাশাপাশি ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদ এবং পুরনো পেনশন নীতি ফিরিয়ে আনার দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে।


