স্নেহা পাল, দিল্লি: চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রসঙ্গে অসমের মুখ্যমন্ত্রী ‘মিয়া ভোট’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে নিশানা করেন। পাশাপাশি ৭ ফেব্রুয়ারি অসম বিজেপির এক্স (পূর্বে টুইটার) হ্যান্ডল থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে মুখ্যমন্ত্রীকে বন্দুক হাতে দেখা যায় এবং ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক শট’ জাতীয় শব্দ ব্যবহার করা হয়। তীব্র সমালোচনার মুখে ভিডিওটি মুছে ফেলা হলেও তা বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ঘৃণামূলক বক্তব্য (Hate speech) ও উসকানির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক Writ petition দায়ের হয়। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এই মামলাগুলির জরুরি শুনানির জন্য সম্মতি প্রকাশ করেন।
নতুন একটি পিটিশনে অভিযোগ জানানো হয় যে মুখ্যমন্ত্রী পদে থেকেও হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রকাশ্য বক্তৃতা, সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য ও সামাজিক মাধ্যমে ঘৃনামূলক বক্তব্য (Hate speech) রাখেন যা ধর্ম, ভাষা ও জন্মস্থানের ভিত্তিতে বিভেদ তৈরি করে।
এই Writ Petition আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ড. হীরেন গোঁহাই, প্রাক্তন অসম ডিজিপি হরেকৃষ্ণ ডেকা, সাংবাদিক পীযূষ চন্দ্র মালাকার এবং সিনিয়র আইনজীবী শান্তনু বরঠাকুর। তাঁদের পক্ষে আইনজীবী রূপালি স্যামুয়েল প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে জরুরি তালিকাভুক্তির আবেদন জানান।
এর আগে সিপিএম ও সিপিআই এর তরফে দায়ের হওয়া পৃথক আবেদনে সুপ্রিম কোর্টে FIR দায়ের ও আদালতের নজরদারিতে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনেরও দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনগুলিতে সংবিধানের ১৪, ১৫, ১৯ ও ২১ অনুচ্ছেদের অধীনে সমতা, মর্যাদা ও জীবনের অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জানান, এই আবেদনগুলি একত্রে শোনা হবে।
আবেদনকারীদের যুক্তি, Tehseen S. Poonawalla বনাম ভারত সরকার মামলার রায় অনুযায়ী, ঘৃণামূলক বক্তব্যের (Hate speech) ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনের FIR দায়ের করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর মতো উচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তায় আইনের দুর্বলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।


