স্নেহা পাল, কলকাতা: এর আগেও এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে একাধিক ঘটনায় ভোটের মুখে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। এবার তার সাথে জুড়ল আরোও এক নতুন ঘটনা।
মাদক পাচার সংক্রান্ত মামলায় সাসপেন্ডেড তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) মেয়ের শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের নামে থাকা প্রায় ১০.৭৩ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৪টি সম্পত্তিতে ‘ফ্রিজিং অর্ডার’ জারি করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে জমি, বাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট সব সম্পত্তির সামনেই মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক নোটিশ টাঙানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এই মামলায় ১৫টি থেকে ১৯টি পর্যন্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে এবং দুটি গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সোমবার এই প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং বুধবার পর্যন্ত তা চলবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মালিক হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) মেয়ে নাজমা সুলতানার শ্বশুর শরিফুল ইসলাম এবং তাঁর আত্মীয় জিয়াউল ইসলাম। জিয়াউল ইসলামকে গত বছর মার্চ মাসে হেরোইন পাচারের অভিযোগেও একবার গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত অনুযায়ী মাদক পাচার থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়েই এই সম্পত্তিগুলি কেনা হয়েছিল।
মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার জানান, “আদালতের নির্দেশেই এই সম্পত্তিগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে নিলাম করা হবে।”
অন্যদিকে হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) বলেন, “আমার সাথে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে আমার মেয়ের শ্বশুরবাড়িকে নিশানা করা হচ্ছে। আমরা আইনগতভাবে লড়াই করব।” তাঁর মেয়ে নাজমা সুলতানাও এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেই দাবি করেছেন।
তবে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ তাঁর অভিযোগ খারিজ করে বলেন, “এটি পুরনো মামলা। হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) দল ছাড়ার পর নতুন করে কিছু হয়নি। আইন অনুযায়ী তদন্ত চলছে।”


