স্নেহা পাল, নদিয়া: অনেককাল আগেই রবিঠাকুর বলে গেছেন ‘অন্ধজনে দেহো আলো’। কিন্তু সেই আলো দিতে গিয়ে অপরাধীতে পরিণত হতে হলো এক শিক্ষককে।
সোমবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরে মৃত মায়ের কর্নিয়া দানকে ‘চোখ বিক্রি’ বলে অভিযোগ তুলে স্কুল শিক্ষক এবং সমাজকর্মী আমির চাঁদ শেখ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এই গ্রেফতারের পরই প্রতিবাদে সরব হন মানবাধিকার কর্মী ও অঙ্গদান (Organ Donation) আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলি। কোনও প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই শোকাহত পরিবারকে এভাবে গ্রেপ্তার করা সংবিধানসম্মত অধিকার ও ফৌজদারি আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী বলে দাবি করেন তারা।
একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন একটি শংসাপত্র প্রকাশ করে দেখায় যে ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর রাবিয়া বিবি স্বেচ্ছায় চোখ দানের অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত সাহা রায় বলেন, “অঙ্গদান (Organ Donation) সম্পূর্ণ আইনসিদ্ধ। কাউকে গ্রেফতার করার আগে ন্যূনতম যাচাই করা পুলিশের দায়িত্ব।”
পাশাপাশি জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রঞ্জিত কুমার দাস জানান, “চোখ দানের ক্ষেত্রে বিক্রির কোনও সুযোগ বা প্রশ্নই ওঠে না। এটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ও নথিভুক্ত প্রক্রিয়া।” পশ্চিমবঙ্গ ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইয়াহিয়াও বলেন, “ইসলাম স্বেচ্ছায় অঙ্গদানে বাধা দেয় না। ধর্মীয় অনুভূতির অজুহাতে কাউকে হেনস্থা করা মানবাধিকারের লঙ্ঘন।”
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী গ্রেফতারের আগে প্রাথমিক অনুসন্ধান এবং অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি, বিশেষত যেখানে অভিযুক্তরা সমাজকর্মী এবং নথিভিত্তিক প্রমাণ বিদ্যমান। নাগরিকের মর্যাদা ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত রাখাও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব। বিশেষত যে দেশে মানবাধিকার বিষয়ে এত আইন, সেই দেশে দাঁড়িয়ে আইনের রক্ষকদের এহেন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যবাসী।


