Aaj India Desk, কলকাতা : গত মে মাসের বিধানসভা নির্বাচনের শুরু থেকেই পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থার দুর্দশার ছবি ধীরে ধীরে সামনে এলেও এবার শিক্ষক বণ্টনের বৈষম্যের ভয়ংকর সংখ্যা প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় রিপোর্ট। কোথাও শিক্ষক রয়েছেন, কিন্তু পড়ুয়া নেই। আবার কোথাও বিপুল পড়ুয়ার তুলনায় শিক্ষক কার্যত অপ্রতুল। আগেই এই বিষয়ে অনুসন্ধান করেছিল আজ ইন্ডিয়া। (Teacher shortage) এবার সেই তথ্য সত্যি প্রমাণিত করলো কেন্দ্রের UDISE+ 2025-26 রিপোর্ট।
জুলাইয়ে প্রকাশিত এবং অগস্টে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের ওয়েবসাইটে আপলোড হওয়া UDISE+ রিপোর্ট অনুযায়ী, গোটা দেশে ৫,৬৬৩টি স্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই রয়েছে ৪,১৩৩টি, অর্থাৎ দেশের মোট শূন্য-ভর্তির স্কুলের প্রায় ৭৩ শতাংশ। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। সেখানে ৩১৩টি স্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই এবং ওই স্কুলগুলিতে ১৭৭ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।
তথ্যের গরমিলের কথা মানল রাজ্য
শিক্ষক-পড়ুয়ার এই অসামঞ্জস্যের পিছনে তথ্য আপলোডের সমস্যার কথাও জানিয়েছে রাজ্য সরকার। পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের দাবি, বেশ কিছু বেসরকারি স্কুল UDISE+ পোর্টালে শিক্ষকদের তথ্য আপলোড করলেও পড়ুয়াদের তথ্য সঠিকভাবে আপলোড করেনি। ফলে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিতে শিক্ষক থাকলেও পড়ুয়ার সংখ্যা শূন্য দেখাচ্ছে। তিনি জানান, এই ধরনের তথ্যগত সমস্যা সংশোধনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজ্যে শিক্ষক বণ্টনের বৃহত্তর সমস্যার কথাও স্বীকার করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, গত প্রায় ১৫ বছরে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
২.২৯ লক্ষ পড়ুয়ার জন্য মাত্র একজন শিক্ষক
UDISE+ তথ্য বলছে, রাজ্যের ৬,৭৬৯টি স্কুলে মাত্র একজন করে শিক্ষক রয়েছেন। এই স্কুলগুলিতে মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ২,২৯,৫৬৯। অর্থাৎ কিছু স্কুলগুলিতে অতিরিক্ত শিক্ষক থাকলেও রাজ্যের বহু স্কুলে পড়ুয়ার তুলনায় শিক্ষকসংখ্যার ঘাটতিও রয়েছে। রাজ্যের মোট ৯৩,১৪৭টি স্কুলের মধ্যে প্রায় ৮ শতাংশ স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ১০ বা তার কম। আবার প্রায় ৮.৫ শতাংশ স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ৫০০-র বেশি। পশ্চিমবঙ্গে পিউপিল-টিচার রেশিও ১:৩০। অর্থাৎ গড়ে ৩০ জন পড়ুয়ার জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যেই এই পরিসংখ্যান সামনে এল। শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে CBI ও ED সক্রিয় হয়েছিল। এই মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়-সহ তৎকালীন সরকারের একাধিক নেতা ও আধিকারিক গ্রেফতার হয়েছিলেন। তাঁরা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট দুর্নীতি ও অনিয়ম সংক্রান্ত মামলায় ২৫ হাজারেরও বেশি স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ বাতিল করে।
সব মিলিয়ে UDISE+ এর তথ্য পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষায় একটি দ্বিমুখী সমস্যার ছবি তুলে ধরছে। একদিকে পড়ুয়াহীন স্কুলে বিপুল শিক্ষক, অন্যদিকে হাজার হাজার পড়ুয়াকে সামলাতে মাত্র একজন শিক্ষক। রাজ্য সরকার শিক্ষক পুনর্বণ্টন ও তথ্য সংশোধনের উদ্যোগের কথা বললেও, শিক্ষক নিয়োগ, স্কুলছুট এবং পরিকাঠামোগত বৈষম্য দূর করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।


