Aaj India Desk, কলকাতা : মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের ঘর গোছানোর মধ্যেই সামনে এল দলের অন্দরের গোষ্ঠী-সমীকরণ। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম (Monirul Islam) জানিয়ে দিলেন, তিনি অধীর চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসে ফিরবেন না। বরং সরাসরি রাজ্য বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাত ধরে দলে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। মনিরুল জানিয়েছেন, রাজ্য ও দিল্লির নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যেই কলকাতা অথবা দিল্লিতে কোনও শীর্ষ নেতার হাত থেকে কংগ্রেসের পতাকা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অধীরকে এড়িয়ে যোগদানের সিদ্ধান্ত
বিধানসভা নির্বাচনের পর মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস সাংগঠনিক ভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যেই দলের নেতৃত্বকে ঘিরে মতপার্থক্যও প্রকাশ্যে এসেছে। প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরী একের পর এক দলবদল করাচ্ছেন। আবার দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক প্রকাশ জোশীর তরফে কয়েকটি যোগদান নিয়ে আপত্তি উঠেছে।
সম্প্রতি ধুলিয়ান পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ কয়েকজন তৃণমূল নেতার কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়। অধীরের উপস্থিতিতে যোগদানের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই যোগদান স্থগিত করে হাইকমান্ড। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মনিরুলের (Monirul Islam) কংগ্রেসে ফেরার ঘোষণা নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।
‘জেলা নেতার হাত থেকে পতাকা নেব না’
মনিরুল (Monirul Islam) স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি অধীর চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসে ফিরছেন না। তাঁর কথায়, “দিল্লি এবং রাজ্যস্তরে কথাবার্তা অনেকদূর এগিয়েছে। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যেই কলকাতা বা দিল্লিতে বড় নেতার হাত ধরে পতাকা নেব। জেলা স্তরের কোনও নেতার হাত থেকে নেব না।”
অধীর চৌধুরীর সঙ্গে মনিরুলের দূরত্বের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। মনিরুলের দাবি, মনোনয়নের শেষ দিনে বহরমপুরে অধীরের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও তাঁর সঙ্গে দেখা হয়নি। অন্যদিকে মনিরুলের কংগ্রেসে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে কটাক্ষ করেছেন অধীর। তাঁর বক্তব্য, “উনি বোম্বে, দিল্লি, নিউইয়র্ক যেখানে খুশি যেতে পারেন। কিন্তু রাজনীতি করতে হবে মুর্শিদাবাদে।”
নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত?
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ফরাক্কার বর্তমান কংগ্রেস বিধায়ক মোতাব শেখ অধীর ঘনিষ্ঠ। ফলে অধীরের হাত ধরে কংগ্রেসে ফিরলে স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁকে অধীরের প্রভাববলয়ের সঙ্গে সমন্বয় করেই চলতে হতে পারে। সেই কারণেই সম্ভবত মনিরুল সরাসরি রাজ্য বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাত ধরে দলে ফেরার কৌশল নিয়েছেন। অন্য একটি অংশের মতে, বিষয়টি শুধু একজন প্রাক্তন বিধায়কের দলবদল নয়। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদে অধীর-বিরোধী শিবিরের শক্তি দেখানোর বার্তাও থাকতে পারে। ধুলিয়ানে যোগদান স্থগিত হওয়ার পরেই মনিরুলের এই ঘোষণা সেই জল্পনাকে আরও বাড়িয়েছে। এখন নজর, শেষ পর্যন্ত তিনি কবে, কোথায় এবং কার হাত ধরে কংগ্রেসে যোগ দেন।


