কলকাতা: কলকাতা এখনও ভোট (KMC Election) দেয়নি, কিন্তু মেয়রের চেয়ারে ইতিমধ্যেই ‘দাবিদার’! ইভিএম ঘুমোচ্ছে, পোস্টার ছাপা চলছে, চায়ের দোকানে তর্কের ভাঁড়ে জল ফুটছে। এরই মাঝে বিজেপির পুরভোটের ইনচার্জ সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder) মেয়রের এক অভিনব ‘ক্রাইটেরিয়া’ বলে দিলেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল!
বুধবারের সাংবাদিক বৈঠকে সুকান্ত জানালেন, প্রার্থী বাছাই হবে একেবারে এসওপি মেনে। সমাজের সব স্তরের মানুষ থাকবেন তালিকায়, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি হবে বড় শর্ত, আর দীর্ঘদিনের দলীয় কর্মীরা পাবেন অগ্রাধিকার। অর্থাৎ, শুধু পদ্ম ভালোবাসলেই হবে না, পদ্মের সঙ্গে পুরনো সম্পর্কের প্রমাণপত্রও লাগতে পারে!
তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সুকান্ত (Sukanta Majumder) কার্যত ঘোষণাই করলেন যে, এবার কলকাতা পুরসভায় বসবেন “সনাতনী মেয়র”! পাশাপাশি, ‘অতি উৎসাহী’ নেতাদের উদ্দেশে সোজা ভাষায় তাঁর বার্তা, “এখনই নিজের ভিজিটিং কার্ডে কাউন্সিলর লিখে ফেলবেন না, পরে কাঁদতে হতে পারে!” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বক্তব্যের পর কয়েকটি সম্ভাব্য প্রার্থীর প্রিন্টিং প্রেসে নাকি হালকা নীরবতা নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল থেকে ‘ভালো’ নেতা এলে দরজা খোলা কি না? সেই প্রশ্নে সুকান্ত দর্শনের পথে হাঁটলেন। তাঁর ব্যাখ্যা, ভালো-কালো আপেক্ষিক। ফলে রাজনীতিতে আপেক্ষিকতা তত্ত্ব ঢুকে পড়ায় আইনস্টাইনও হয়তো আজ কলকাতার ওয়ার্ড ম্যাপ খুঁজতেন!
এরপর এল আসল ক্লাইম্যাক্স, ২০৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপির লক্ষ্য ১৭০–১৮০ আসন (KMC Election)। হিসেবটা এমন আত্মবিশ্বাসী যে বিরোধীরা ক্যালকুলেটর খুঁজছে, আর সমর্থকেরা হয়তো পুরভবনের ঘরের রং বাছাই শুরু করে দিয়েছেন।
পুরভবনের লোগো টেনে প্রতীকী বার্তা
সুকান্তর দাবি, কলকাতা পুরসভার লোগোতেই তিনদিকে পদ্মফুল ও একদিকে স্বস্তিকের প্রতীক রয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই তিনি বলেন, পুরসভা তার ‘পুরনো হৃতগৌরব’ ফিরে পাবে এবং সেখানে সনাতনী মেয়র বসবেন।
উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পর ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদ ছাড়েন। বর্তমানে প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন স্মিতা পাণ্ডে। আর ডিসেম্বরের ভোটকে সামনে রেখে কলকাতার রাজনৈতিক লড়াইয়ে (KMC Election) প্রথম বড় মনস্তাত্ত্বিক চাল দিয়ে দিল বিজেপি! এখন নজর, ভোটাররা সেই অঙ্ক মেলান কি না।


